কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কলকাতা বিমানবন্দরে বড়সড় সাফল্য পুলিশের। পলাতক কুখ্যাত গ্যাংস্টার প্রিন্স খানের ভাই বান্টি খানকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে ধানবাদ পুলিশ। অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বসে তোলাবাজির চক্র চালানো অভিযোগ উঠেছে প্রিন্স খানের বিরুদ্ধে। সেই গ্যাংয়ের সঙ্গে বান্টির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুবাই প্রিন্স খানের কাছে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল প্রিন্স বান্টি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে যায় পুলিশের একটি বিশেষ দল। তারপর বান্টি খানকে আটক করে তাঁর পরিচয় যাচাই করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে একটি জাল পাসপোর্ট, ভিসা সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য নথি উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ, ওই নথি ব্যবহার করেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল বান্টির। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করে ধানবাদ পুলিশ। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে বান্টিকে ধানবাদে নিয়ে যাওয়া হয় ট্রানজিট রিমান্ডে। পাশাপাশি, কোমরে দড়ি বেঁধে ধানবাদের রাস্তায় ঘোরানো হয় বান্টিকে।
দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরে ছিল পলাতক গ্যাংস্টার প্রিন্স খান। বিদেশে বসে দেশে থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে তোলাবাজি, হুমকি এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রিন্স খানের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গতিবিধির উপরও নজর রাখা হচ্ছিল।
বান্টি খানকে গ্রেফতারের পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রিন্স খানের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কি না, বিদেশ থেকে কোনও নির্দেশ আসত কি না এবং সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে বান্টির কোনও ভূমিকা ছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একইসঙ্গে কলকাতা বা রাজ্যের অন্য কোথাও প্রিন্স খানের কোনও সহযোগী বা যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। এছাড়াও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও। তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা কোথায় যেত, কারা সেই টাকা লেনদেন করত এবং বিদেশে থাকা প্রিন্স খানের কাছে কীভাবে অর্থ পৌঁছত, তা জানার চেষ্টা চলছে। বান্টিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। প্রিন্স খান বর্তমানে পুলিশের কাছে পলাতক। বিদেশে বসে অপরাধের নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলছে।