নিউজ ডেস্ক : স্কুলের ঘন্টা, ক্লাসের পড়াশোনা আর টিফিনের বিরতি, এটাই পড়ুয়াদের চেনা রুটিন। কিন্তু, উৎসবের মরসুমে সেই চেনা ছবিতে যদি যোগ হয় একটু অন্যরকম স্বাদ তা হলে আনন্দ যে কয়েকগুণ বেড়ে যায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পুজোর ছুটির আগে পড়ুয়াদের মনে ছিল বিশেষ কিছু খাওয়ার ইচ্ছা। ছোটদের সেই আবদার শুনে শিক্ষকরাও পিছিয়ে থাকলেন না। তাঁদের উদ্যোগেই স্কুলের মধ্যাহ্নভোজনের মেনুতে এল এক বিশেষ চমক, যা পড়ুয়াদের কাছে হয়ে উঠল স্মরণীয় এক দিন।
ঘটনাটি মালদা শহরের ২ নম্বর গভর্মেন্ট কলোনি প্রাইমারি স্কুলের। বুধবার স্কুলের মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের জন্য আয়োজন করা হয় বিরিয়ানির। সাধারণত স্কুলের মধ্যাহ্ন ভোজে নির্ধারিত খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু, পুজোর ছুটির আগে খুদে পড়ুয়াদের মুখে হাসি ফোটাতে এদিন একটু অন্যরকম উদ্যোগ নেন স্কুলের শিক্ষকরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত মানি জানান, পুজোর ছুটি পড়ার আগে পড়ুয়ারা শিক্ষকদের কাছে বিরিয়ানি খাওয়ার আবদার করেছিল। তাঁদের সেই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুলের ১১ জন শিক্ষক একসঙ্গে উদ্যোগ নেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই মিড ডে মিলের খাবার হিসেবে বিরিয়ানির ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষকদের এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়ারাও।
স্কুলের ছাত্রী সুপর্ণা দাসের কথাতেও ধরা পড়েছে সেই আনন্দের ছবি। তাঁর কথায়, পূজো মানে নতুন জামা কাপড়ের পাশাপাশি ভালো মন্দ খাওয়া দাওয়ার আনন্দ। সেই কথা ভেবে স্কুল ছুটির আগে তাঁরা শিক্ষকদের কাছে বিশেষ খাবারের আবদার জানিয়েছিল। শিক্ষকরা যে তাঁদের কথা এভাবে রাখবেন, তাতে সে এবং তাঁর বন্ধুরা অত্যন্ত খুশি। বন্ধুরা সবাই একইসঙ্গে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার আনন্দ তাঁদের কাছে ছিল একদমই অন্যরকম। পুজোর আগে স্কুলের এই আয়োজন পড়ুয়াদের কাছে নিছকই একটি বিশেষ খাবারের অভিজ্ঞতা নয়, বরং বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ। শিক্ষকদের উদ্যোগে উৎসবের আবহ যেন স্কুলের মধ্যাহ্নভোজনেও ছড়িয়ে পড়ল। ছোটদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোর এই উদ্যোগে শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্কের আন্তরিক দিকটিও সামনে এসেছে।
পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝেও এমন ছোট ছোট আয়োজন যে স্কুল জীবনকে আরও আনন্দময় করে তুলতে পারে, মালদার এই প্রাথমিক স্কুলের উদ্যোগ যেন তারই উদাহরণ। পুজোর ছুটির আগে বিরিয়ানির স্বাদ এবং বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়ার স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরল খুদেরা।




