নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকায় বড়সড় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপের পারদ। শুক্রবার মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এই ইস্যুতে গর্জে উঠলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং পরবর্তীতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবিতে লড়াই শুরু হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপকে অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর শুরু হওয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে ভোটারদের নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি,এই প্রক্রিয়ায় মোট ভোটারের প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।
দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নির্বাচনী এলাকায় ৪০ হাজার, তামিলনাড়ুতে ১ লক্ষ এবং পশ্চিমবঙ্গে ৫০ হাজার নাম বাদ দেওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, যেখানে বিরোধী ও শাসকজোটের ভোটের ব্যবধান অত্যন্ত কম ছিল, সেখানে এই ব্যাপক ছাঁটাই নির্বাচনী ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি শাসিত অঞ্চলগুলিতে কেন এই ধরনের ব্যাপক নাম বাদ পড়ার নজির দেখা যাচ্ছে না?
যদিও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মৃত্যু ও স্থানান্তর সংক্রান্ত স্বাভাবিক কারণেই বহু নাম বাদ গেছে এবং ফলাফলের সঙ্গে এই প্রক্রিয়ার সরাসরি যোগসূত্র মেলেনি। তবুও দিল্লির মতো জায়গায় খসড়া তালিকায় নাম প্রায় ৩২.৮ শতাংশ কমে যাওয়ার ঘটনা জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে। সম্প্রতি দুই নির্বাচন কমিশনারের ভিন্নমত ও বুথস্তরের কর্মীদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার না পাওয়ার খবরে বিতর্ক আরও বাড়ে; যদিও কমিশন দাবি করেছে সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত ছিল।
শিবাজি পার্কের এই বিক্ষোভমঞ্চে বিশিষ্ট অভিনেত্রী শাবানা আজমি, সুরকার বিশাল দাদলানি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীর মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। শিবসেনা-ও এই আন্দোলনে সরাসরি সমর্থন জানায়।
কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে দীপকে বলেন, ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি এবার বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডের শিবিরকে বিজেপির একটি ‘শেল কোম্পানি’ বলে কটাক্ষ করেন এবং বিধায়ক কেনাবেচার রাজনীতিকে ‘আইপিএল নিলাম’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।