পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ ফের অশান্তির আবহ। ইসলামাবাদ-বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। যদিও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর সংখ্যার বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
জেএএসি-র অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনা ও রেঞ্জার্স। রাওয়ালাকোটের ড্রেক এইথ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের কোর কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র উমর নাজির কাশ্মীরির ভাই উসমান নাজির। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে পিওকে আইনসভার প্রথম দফার নির্বাচনের ফলাফল। প্রথম দফায় ১৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ফলাফলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল-এন ৯টি আসনে জয় পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জিতেছে তাদের জোটসঙ্গী পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।
তবে ফল প্রকাশের পর থেকেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। পিপিপি নেতা নইয়ার বুখারি দাবি করেছেন, সেনার সহায়তায় ভোটে প্রভাব খাটিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে পিএমএল-এন। তাঁর অভিযোগ, ভোটগণনার সময় পিপিপি-র এক কর্মীকেও হত্যা করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
জেএএসি আগেই এই নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিল। সংগঠনের অভিযোগ, ভোটে অংশগ্রহণে অনীহা থাকা সত্ত্বেও বহু সাধারণ মানুষকে জোর করে বুথে নিয়ে গিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই সোমবার বিক্ষোভে নামে স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই বিক্ষোভ দমন করতেই নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালায় বলে অভিযোগ।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই ১২টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই আসনগুলি পাকিস্তানে বসবাসকারী জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। জেএএসি-র দাবি, এই সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে ইসলামাবাদ পিওকে-র রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করছে এবং স্থানীয় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছে জেএএসি। সংগঠনের দাবি, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, সংগঠনের নেতা সর্দার আমান খান পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ নিয়েও সরব হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কাশ্মীরে সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি রুখতে আন্তর্জাতিক মহল ও ভারতের হস্তক্ষেপেরও আবেদন জানিয়েছেন।
নির্বাচন, বিক্ষোভ এবং প্রাণহানির জেরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি ক্রমশই আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বিভিন্ন মহল।