JAZZBAAT 24 BANGLA
১৪ অক্টো ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
Breaking
Political Controversy : “অভিষেককেও সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে”, সুকান্ত মজুমদার Arijit Singh: অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের টিকিটের দাম ১১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা! Malda News: পুজোর আগে ক্ষুদেদের পাতে স্পেশাল মেনু, খুশিতে মাতল পড়ুয়ারা Air France: ৩১ দেশের নাগরিক বিমানকর্মীদের নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিতর্ক Meghalaya Tourism: মেঘালয়ের এই গ্রামে প্রত্যেকের নাম এক-একটি গান, রইল পৌঁছনোর ঠিকানাও Rann of Kutch: ভারতের এই সাদা নোনা প্রান্তরে শীতেই কেন পর্যটকদের ভিড় Bengali Recipe: লুচি-ছোলার ডাল থেকে কষা মাংস, বাঙালির ভোজে কোন পদগুলি থাকতেই হবে? CJP Protest: তেরঙ্গা হাতে ফের দিল্লিতে CJP-র ডাক! ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় কী হতে চলেছে কনট প... Political Controversy : “অভিষেককেও সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে”, সুকান্ত মজুমদার Arijit Singh: অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের টিকিটের দাম ১১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা! Malda News: পুজোর আগে ক্ষুদেদের পাতে স্পেশাল মেনু, খুশিতে মাতল পড়ুয়ারা Air France: ৩১ দেশের নাগরিক বিমানকর্মীদের নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিতর্ক Meghalaya Tourism: মেঘালয়ের এই গ্রামে প্রত্যেকের নাম এক-একটি গান, রইল পৌঁছনোর ঠিকানাও Rann of Kutch: ভারতের এই সাদা নোনা প্রান্তরে শীতেই কেন পর্যটকদের ভিড় Bengali Recipe: লুচি-ছোলার ডাল থেকে কষা মাংস, বাঙালির ভোজে কোন পদগুলি থাকতেই হবে? CJP Protest: তেরঙ্গা হাতে ফের দিল্লিতে CJP-র ডাক! ১৬ অক্টোবর বিকেল ৫টায় কী হতে চলেছে কনট প...

Pakistan: ইমরানের ঘাঁটিতে জরুরি শাসন, মুনির-শাহবাজের চালেই কি বাড়বে বিপদ?

Pakistan: ইমরানের ঘাঁটিতে জরুরি শাসন, মুনির-শাহবাজের চালেই কি বাড়বে বিপদ?
ছবি: গ্রাফিক্স ও এআই দ্বারা নির্মিত

ইসলামাবাদ: জেলে বন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব মুছে ফেলা যে সহজ নয়, তা আরও এক বার স্পষ্ট পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা কার্যত খর্ব করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের যুক্তি, ওই প্রদেশে জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়লেও সন্ত্রাস দমনে যথাযথ পদক্ষেপ করেনি পিটিআই পরিচালিত প্রশাসন। 

কিন্তু এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও গভীর বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, ইমরানকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা উল্টে তাঁর সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশে সই করেন। তার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই পদক্ষেপের সুপারিশ করেছিল। 

এর ফলে ইমরানের দল পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা খর্ব করে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পথ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, প্রদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং জঙ্গি দমনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। অন্য দিকে, পিটিআইয়ের অভিযোগ, নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। দলটির নেতারা এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন।

ইমরানের শক্ত ঘাঁটিতেই কেন এই পদক্ষেপ?

খাইবার পাখতুনখোয়া পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এই অঞ্চলের। পশতুন জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং ইমরানের দলের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রদেশটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

২০২৩ সালের অগস্ট থেকে জেলে বন্দি ইমরান। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছে। ইমরান ও তাঁর দল অবশ্য বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে, তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে নিষ্ক্রিয় করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান ও সেনা নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলেছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফল নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল পিটিআই। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনে কারচুপি করে দলটিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। সেই অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে সরকার। 

জেলে থেকেও ইমরানের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়ায় তাঁর দলের সমর্থন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্তকে নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এর ফলে কেন্দ্র ও প্রদেশের সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

তবে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের পিছনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও রয়েছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, ওই অঞ্চলে জঙ্গি হামলা বেড়েছে এবং প্রাদেশিক প্রশাসন সন্ত্রাস দমনে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না। ফলে রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি নিরাপত্তার প্রশ্নটিও এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।

আসিম মুনিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জঙ্গি দমন এবং আফগানিস্তান নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেনা নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের আমলে সেনাবাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ। খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর ক্ষমতার সমীকরণের সঙ্গেও যুক্ত বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

তবে প্রাদেশিক সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি মুনিরের নির্দেশে হয়েছে, এমন কোনও স্বাধীন ভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ্য যুক্তি নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অন্য দিকে, পিটিআইয়ের দাবি, এই পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ফলে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করতে গেলে সরকারি বক্তব্য, বিরোধীদের অভিযোগ এবং সেনাবাহিনীর প্রকৃত ভূমিকার মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক অতীতেও বার বার বদলেছে। এক সময় যে রাজনৈতিক নেতারা সেনাবাহিনীর সমর্থন পেয়েছেন, পরে তাঁরাই সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন। ইমরানের ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সন্ত্রাস দমনের যুক্তি, পাল্টা রাজনৈতিক অভিযোগ

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে শাহবাজ সরকারের প্রধান যুক্তি হল, প্রদেশে জঙ্গি হামলা বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনের ব্যর্থতা। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নিরাপত্তার বড় সমস্যা।

কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, প্রাদেশিক প্রশাসন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি। সরকারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।

কিন্তু পিটিআই এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অজুহাত করে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপের ফলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দুর্বল হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সংঘাত বাড়তে পারে।

এই বিতর্কে একটি মৌলিক প্রশ্ন রয়েছে। সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত এবং দায় নির্ধারণের স্বচ্ছ পদ্ধতি কী হবে? আর নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলেও নির্বাচিত সরকারের সাংবিধানিক অধিকার কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে? পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা

খাইবার পাখতুনখোয়ার সংকটের প্রভাব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। আফগানিস্তানের সঙ্গে এই প্রদেশের সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের দুই দিকে পশতুন জনগোষ্ঠীর বসবাস এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে টিটিপিকে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তালিবান প্রশাসন এই ধরনের অভিযোগের জবাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে এবং সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ এবং বিমান হামলার ঘটনাও সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী মনে করে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। অন্য দিকে, কাবুলের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের অবনতি সীমান্তের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলছে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। 

তবে আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন ইমরান খানের দলকে কী ধরনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সমর্থন দিচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। দুই পক্ষের পশতুন পরিচয়ের যোগসূত্র থাকলেও তা থেকে সরাসরি রাজনৈতিক সমর্থনের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। বরং সীমান্ত নিরাপত্তা, টিটিপির কার্যকলাপ এবং দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের মতো নির্দিষ্ট বিষয়গুলিই এই সংঘাত বোঝার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আন্দোলনের পথে ইমরান-সমর্থকেরা

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ইসলামাবাদের দিকে মিছিল করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং বিভিন্ন জায়গায় বাধা তৈরির খবর সামনে এসেছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্ত আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়াতে পারে। জরুরি অবস্থা জারির পর পিটিআইয়ের তরফে এর বিরোধিতা করা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের শেষ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাকেন্দ্রগুলির একটিকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। 

তবে আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হবে বা তার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার কী ধরনের রাজনৈতিক চাপে পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। পরিস্থিতি নির্ভর করবে পিটিআইয়ের সাংগঠনিক প্রতিক্রিয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর।

একসঙ্গে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানের সামনে এখন শুধু খাইবার পাখতুনখোয়ার সমস্যা নেই। বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিংসা চলছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপড়েন রয়েছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের একাধিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চাপ সামলানো পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। খাইবার পাখতুনখোয়ায় রাজনৈতিক বিরোধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সেখানে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে সব সম্ভাব্য সংঘাতকে একই সূত্রে বেঁধে দেখা ঠিক হবে না। বালুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের নিজস্ব ইতিহাস ও কারণ রয়েছে। এই সমস্যাগুলি একে অপরকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু তাদের চরিত্র এক নয়।
শাহবাজ সরকারের সামনে রাজনৈতিক পরীক্ষাও

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করে শাহবাজ শরিফের সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য হিসেবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপের ফল নির্ভর করবে প্রদেশে জঙ্গি হামলা কমে কি না, প্রশাসনিক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয় এবং স্থানীয় মানুষের আস্থা বজায় থাকে কি না তার উপর।
যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার রাজনৈতিক সংঘাত বাড়লে পিটিআইয়ের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সরকারকে একই সঙ্গে নিরাপত্তা, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন সামলাতে হবে।

অন্য দিকে, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে। পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর প্রভাব এবং নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে যে দীর্ঘদিনের আলোচনা রয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে, ইমরান খানের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এটি নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামলানোর পদক্ষেপ; পিটিআইয়ের কাছে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন এবং সেনাবাহিনীর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক আলোচনা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর থাকে তার উপর।

বিজ্ঞাপনAdi Mohini Mohan Kanjilal
5 Views 0 Likes 0 Comments

Related News

Air France: ৩১ দেশের নাগরিক বিমানকর্মীদের নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিতর্ক
বিদেশ

Air France: ৩১ দেশের নাগরিক বিমানকর্মীদের নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিতর্ক

নিউজ ডেস্ক: বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, আর তার জেরে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায় নতুন বিতর্ক। ইজরায়েলগামী বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তা নিয়ে জারি করা নতুন বিধি মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্সের বিমান সংস্থা এ...

১৪ অক্টো ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম · 3 মিনিট
Bangladesh Durga Puja: বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, ৩৩ হাজারেরও বেশি মণ্ডপে উৎসবের আয়োজন
বিদেশ

Bangladesh Durga Puja: বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, ৩৩ হাজারেরও বেশি মণ...

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠের ধারে কাশফুলের দোলা। কোথাও প্রতিমার চোখে শেষ তুলির টান, কোথাও চলছে অলংকার ও সাজসজ্জার কাজ। অন্যদিকে, পুজোর নতুন পোশাক কিনতে বিপণিবিতানগুলিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। সব ম...

১৪ অক্টো ২০২৬, ০৫:০২ পিএম · 2 মিনিট
Bangladesh: ঋণ থেকে বিনিয়োগ, অর্থনীতির নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
বিদেশ

Bangladesh: ঋণ থেকে বিনিয়োগ, অর্থনীতির নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ

হাবিবুর রহমান, ঢাকা: চীনের সঙ্গে ঋণনির্ভর অর্থায়ন থেকে বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের দিকে অগ্রসর হওয়া, বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর...

১৪ অক্টো ২০২৬, ০৫:০১ পিএম · 4 মিনিট
Sheikh Hasina: ‘এক ব্যক্তির জন্য সম্পর্ক আটকে থাকতে পারে না’, বাংলাদেশকে ব্রিকস বয়কট নিয়ে হাসিনার খোঁচা!
বিদেশ

Sheikh Hasina: ‘এক ব্যক্তির জন্য সম্পর্ক আটকে থাকতে পারে না’, বাংলাদেশকে ব্রিকস বয়...

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েনের আবহে ফের আলোচনার কেন্দ্রে শেখ হাসিনা। ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে মুখ খুলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে...

১৪ অক্টো ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম · 5 মিনিট

Top Comments (0)

No approved comments yet.