যখন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ, ঠিক তখনই স্বাধীনতা দিবসের ১৩ তম ভাষণে লালকেল্লা থেকে পরীক্ষামূলক প্রস্তুতির জন্য বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পড়ুয়াদের বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের উপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে বলে আসা মোদীর।
শনিবার ভাষণে মোদী বলেন, 'কোচিং ক্লাসকে ঘিরে প্রতিযোগিতা মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেক বাবা-মায়ের মনে হয় সন্তানকে কোচিং সেন্টারে না পাঠালে সে পিছিয়ে পড়বে। এমনকি মনে হয় তারা যেন সম্মানজনক পরিবারের অংশ নন।'
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কোচিংয়ের পেছনে পরিবার গুলি হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে। এই খরচের বোঝা কমাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পড়ুয়ারা পরিবারের সঙ্গে থেকে পড়াশোনার সুযোগ পাবে পাশাপাশি পরিবার গুলি অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে মুক্ত হবে।
মোদী আরো বলেন, 'তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশের পড়ুয়াদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং দেওয়া হবে।' এই উদ্যোগের ফলে দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাজে লাগানো হবে।
একই সঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা শিক্ষাক্ষেত্রেও এক বড় পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন লালকেল্লা থেকে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি দাবি করেন ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে দেশে ৩৫০ টিরও কম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকে ৬৫০টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে ভারতে।
পাশাপাশি তিনি আরো দাবি করেন, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। যেখানে ২০১৪ সালের আগে পর্যন্ত প্রায় ৪০০ টি মেডিকেল কলেজ ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮৫০টি হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং এর বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে দেশের উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামগত খতিয়ান।