নিট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক চাপের পর অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার এনডিএ-র সংসদীয় বৈঠকে তিনি বলেন, নিটের প্রশ্নফাঁস ‘ঘোর অন্যায়’ এবং এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিট পরীক্ষা। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী সেই পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু ফল প্রকাশের আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। পরে এনটিএ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনার জেরে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হতাশায় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে আসে। বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তোলে।
একই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে টানা ২৪ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার সিজেপি-র ডাকা সংসদ অভিযানে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী অংশ নেন। তবে এতদিন এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার এনডিএ-র সংসদীয় বৈঠকে মোদি বলেন, "প্রশ্নফাঁস একটি ঘোর অন্যায়। বিষয়টি সামনে আসার পরই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা সরকারের দায়িত্ব। ইতিমধ্যেই ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।"
সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুও জানান, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই পুনরায় নিট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।