ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়ে কাজে নেমে পড়লেন নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী। রবিবার দিল্লির শাস্ত্রী ভবনে শিক্ষামন্ত্রকের দফতরে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকও করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, অত্যন্ত বিনয় ও কর্তব্যবোধের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করবেন।
দফতরে প্রথম দিনের বৈঠকের একাধিক ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন প্রহ্লাদ জোশী। তিনি লেখেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁর উপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। একই বার্তা তিনি ইংরেজির পাশাপাশি নিজের মাতৃভাষা কন্নড়েও প্রকাশ করেন।
প্রহ্লাদ জোশীর হাতে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব আসে এমন এক সময়ে, যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনকারীরা শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের দায় নিয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন। সেই দাবিকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘ আন্দোলন, অনশন এবং সরকারের সঙ্গে একাধিক দফার বৈঠক হয়।
শেষ পর্যন্ত সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করে এবং নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ জোশীর নাম ঘোষণা করে। শনিবার অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, সরকারের প্রত্যাশা পূরণে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। রবিবার দফতরে প্রথম বৈঠকের মাধ্যমে সেই বার্তাকেই কার্যত বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করলেন তিনি।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার খসড়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনও মিলেছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণাও করেছে কেন্দ্র।
এই পরিস্থিতিতে প্রহ্লাদ জোশীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা। শিক্ষা মন্ত্রকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনার পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার দিকেও জোর দেওয়া হবে বলে প্রশাসনিক মহলের আশা। নতুন শিক্ষামন্ত্রীর প্রথম দিনের সক্রিয়তা সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।