নয়াদিল্লি, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ধর্নার চাপে শেষ পর্যন্ত এফআইআর। ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন পেলেট গানে আহত হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার সংসদ মার্গ থানার বাইরে ধর্নায় বসেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি ছিল, ১৯ বছরের সাহিল লোচবের অভিযোগের ভিত্তিতে অবিলম্বে এফআইআর করতে হবে। রাহুলের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন লোচবও। পুলিশ শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৮ এবং ১২৫ ধারায় মামলা রুজু করেছে।
লোচবের অভিযোগ, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পেলেটের আঘাতে তিনি জখম হন। তাঁর শরীরে প্রায় ১০০টি পেলেটের আঘাত রয়েছে এবং একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে দাবি রাহুলের। বৃহস্পতিবার লোচব রাহুলকে জানিয়েছিলেন, এত দিন পরেও তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর হয়নি। তার পরেই কংগ্রেস নেতা তাঁকে আশ্বাস দেন, পরের দিন মামলা দায়ের হবে। শুক্রবার সেই আশ্বাসের পরই প্রায় আট ঘণ্টা ধরে প্রক্রিয়া চলে এবং শেষ পর্যন্ত এফআইআর নথিভুক্ত হয়।
এফআইআর দায়ের হওয়ার পর রাহুল বলেন, "এটি ন্যায়ের প্রথম ধাপ।" তাঁর আরও দাবি, ঘটনার প্রায় এক মাস পর মামলা হয়েছে এবং এফআইআর দায়েরের চূড়ান্ত অনুমোদন এসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে। লোচবও রাহুলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, রাহুল নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পাশে থেকেছেন। এ দিনই রাহুল প্রথমে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে সংসদ মার্গ থানার ডেপুটি কমিশনারের দফতরের বাইরে ধর্নায় বসেন।
তবে ঘটনাটি ঘিরে বিতর্ক এখনও কাটেনি। দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে নিরাপত্তারক্ষীরা পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহার করেননি। এমনকি পুলিশের কাছে পেলেট গান নেই বলেও জানানো হয়েছে। অন্য দিকে, অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্ট-নিযুক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিও বিষয়টি পরীক্ষা করছে। ফলে এফআইআর দায়ের হলেও তদন্তের ফলাফল নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।