নয়াদিল্লি: রেলের কামরায় যাত্রীদের গায়ে জড়ানোর জন্য দেওয়া চাদর! সেই চাদরই এ বার ‘শাল’ হয়ে উঠল বাজারে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তিন জন ব্যক্তি প্রকাশ্য বাজারে ভারতীয় রেলের চাদর গায়ে জড়িয়ে ঘুরছেন। সাদা চাদরের গায়ে স্পষ্ট লেখা ‘Western Railway’। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। প্রশ্ন উঠেছে নাগরিকবোধ নিয়ে, একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে রেলের সম্পত্তি কী ভাবে ট্রেনের বাইরে চলে এল, তা নিয়েও।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তিন ব্যক্তি বাজারের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই হাঁটছেন। তাঁদের গায়ে জড়ানো সাদা কাপড়ের গায়ে রয়েছে পশ্চিম রেলের পরিচিত চিহ্ন। প্রথম দেখায় শালের মতো মনে হলেও কাছে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে, সেগুলি আসলে রেলের ব্যবহারের চাদর।
‘Gems of Railway’ নামে একটি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ভিডিয়োটি প্রকাশ করে দাবি করেছে, চাদরগুলি পশ্চিম রেলের কোনও ট্রেন থেকে চুরি করা হয়ে থাকতে পারে। সেই দাবি ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সমাজমাধ্যমে ওঠা এই চুরির অভিযোগ তারা স্বাধীন ভাবে যাচাই করেনি। ফলে ভিডিয়োয় দেখা চাদরগুলি সত্যিই ট্রেন থেকে চুরি করা হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তবে এই ভিডিয়ো নতুন করে সামনে এনেছে রেলের সম্পত্তি চুরির পুরনো সমস্যাকে। একটি সমাজমাধ্যম পোস্টে RTI-র তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিভিন্ন রেল ডিভিশনে ১.২৭ কোটিরও বেশি বেডরোল সামগ্রী নিখোঁজ বা চুরি যাওয়ার রিপোর্ট হয়েছে। এর ফলে রেলের ক্ষতির পরিমাণ ১০৪.৫১ কোটি টাকারও বেশি বলে ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪১.১৩ লক্ষ বেডশিট, ৪৬.৫৪ লক্ষ ফেস টাওয়েল, ২৩.৫৯ লক্ষ বালিশের কভার, ১২.৯৫ লক্ষ কম্বল এবং ২.৭৬ লক্ষ বালিশ।
অর্থাৎ, রেলের কামরা থেকে চাদর, কম্বল বা তোয়ালে উধাও হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও প্রয়াগরাজ স্টেশনে যাত্রীদের লাগেজ পরীক্ষা করে রেলের বেডশিট এবং তোয়ালে উদ্ধারের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও রেলের সম্পত্তি নিয়ে যাত্রীদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
নতুন ভিডিয়ো ঘিরে সমাজমাধ্যমে অবশ্য মত এক নয়। কেউ প্রকাশ্যে রেলের সম্পত্তি ব্যবহারের ঘটনাকে ‘নাগরিকবোধের অভাব’ বলে কটাক্ষ করেছেন। কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, শুধু ভিডিয়ো করে ব্যক্তিদের হেনস্থা না করে রেলের সম্পত্তি বাইরে যাওয়ার উৎস খুঁজে দেখা দরকার। কয়েক জনের প্রশ্ন, রেলের চাদর যদি সত্যিই ট্রেন থেকে বাইরে এসে থাকে, তা হলে যাত্রীদের পাশাপাশি সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার দিকটিও খতিয়ে দেখা উচিত।
কেউ কেউ আরও একটি প্রস্তাব দিয়েছেন, রেলের চাদর, কম্বল বা অন্যান্য সামগ্রীতে আরও স্পষ্ট ভাবে ‘Indian Railways Property’ লেখা থাকলে বাইরে ব্যবহার করলে তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে। রেলের সম্পত্তি চুরি ঠেকাতে নজরদারি এবং কঠোর ব্যবস্থার দাবিও উঠেছে।
তবে ভাইরাল ভিডিয়োর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে, রেলের কামরার চাদর যদি সত্যিই হয়, তা হলে তা বাজারের রাস্তায় এল কী ভাবে? ভিডিয়ো দেখে চুরি হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই, কিন্তু ঘটনাটি রেলের সম্পত্তি সুরক্ষা এবং যাত্রীদের নাগরিক দায়িত্ব, দুই বিষয় নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এক দিকে কোটি কোটি টাকার রেল সম্পত্তি হারানোর দাবি, অন্য দিকে সেই চাদরই কারও গায়ে ‘শাল’ হয়ে বাজারে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য। ভাইরাল ভিডিয়ো তাই নিছক মজার দৃশ্য হয়ে থাকেনি, রেলের সম্পত্তি কার, আর তার দায়িত্বই বা কার, সেই পুরনো প্রশ্নটাই আবার সামনে এনে দিয়েছে।