তাঁদের কথা জুড়ে রয়েছে ভারতের পুরাণ থেকে ইতিহাসে।তাঁদের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন স্বয়ং মর্যাদাপুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র।সেই পথেই হেঁটেছেন রাম-অনুরাগী এবং রামের মতবাদ অনুসরণকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।আর তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে তাঁর নামে একটি মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছেন বিহারের রূপান্তরকামী সমাজ। তাঁদের সামাজিক স্বীকৃতি, সম্মান ও অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিহার রাজ্য রূপান্তরকামী কল্যাণ বোর্ডের বৈঠকে এই মন্দির নির্মাণের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়। এই বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সিং জানান, বিহারের রূপান্তরকামীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো উপাসনালয় ছিল না। 'ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট, ২০১৯' চালুর পর রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তাই তাঁদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর নামে এই মন্দির গড়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল, যা পর্ষদের প্রথম বৈঠকেই গৃহিত হয়েছে। তবে প্রস্তাব অনুমোদন পেলেও মন্দিরটি ঠিক কোন স্থানে এবং কত দিনের মধ্যে নির্মিত হবে, সে সম্পর্কে এখনো কোনো বিশদ ঘোষণা করা হয়নি।
জানা গেছে, আগামী মাসে বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে পর্যালোচনার জন্য পেশ করা হতে পারে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নামে মন্দির তৈরির প্রয়াস এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৫ সালে গুজরাটের রাজকোট জেলার কোঠারিয়া গ্রামে নরেন্দ্র মোদির অনুরাগীরা তাঁর একটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।
কিন্তু সেই সময় এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে মোদি জানান, মন্দির কেবল দেব-দেবীদের জন্যই হওয়া উচিত, কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্য নয়। তাঁর সেই আপত্তির পর রাজকোটের ওই মন্দির থেকে মূর্তি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বিহারের প্রস্তাবিত এই মন্দিরটি চূড়ান্ত রূপ পাবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।