মেট্রো শহরগুলোর নিত্যদিনের দুর্বিষহ ট্রাফিক জ্যাম থেকে মুক্তি দিতে ভারতে পা রাখল উড়ন্ত ট্যাক্সি প্রযুক্তি। চেন্নাইয়ের আইআইটি মাদ্রাজ-ভিত্তিক স্টার্টআপ 'দ্য ই-প্লেন কোম্পানি' আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে তাদের ইলেকট্রিক এয়ার ট্যাক্সি e200X - PT01-এর ফুল-স্কেল প্রোটোটাইপ। আইআইটি মাদ্রাজের ডিসকভারি ক্যাম্পাসের নতুন ৬০,০০০ বর্গফুটের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে এটি প্রদর্শিত হয়, যা ভারতীয় এভিয়েশন খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
হেলিকপ্টারের মতো সোজা ওপরে ওঠার এবং বিমানের মতো উড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই এয়ারক্রাফটের ল্যান্ডিংয়ের জন্য মাত্র ৮x১১ মিটার জায়গার প্রয়োজন। ফলে আলাদা কোনো ‘ভার্টিপোর্ট’ ছাড়াই হাসপাতালের ছাদ বা পুরনো হেলিপ্যাড ব্যবহার করা যাবে।২.২ টন ওজনের এই ট্যাক্সি একবার চার্জে প্রায় ১১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে, যা মুম্বাই-পুনে বা চেন্নাই-পন্ডিচেরির মতো দীর্ঘ দূরত্বকে কয়েক মিনিটে নামিয়ে আনবে।এতে রয়েছে ৬টি লিফটিং রোটার ও ৪টি ফরোয়ার্ড প্রোপেলার। আকাশে উড্ডয়নকালে কোনো মোটর বিকল হলেও বাকি পাখাগুলো উড়ান সুরক্ষিত রাখবে।
আইআইটি মাদ্রাজের অধ্যাপক ও কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা সত্য চক্রবর্তী জানান, পরিষেবাটি প্রথমত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা যানজট এড়িয়ে দ্রুত মুমূর্ষু রোগী স্থানান্তরে সাহায্য করবে। পরবর্তী সময়ে এটি সাধারণ যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। এতে পাইলট ছাড়াও ২০০ কেজি পর্যন্ত পণ্য বা অতিরিক্ত ওজন বহন সম্ভব।উন্নত 'ফ্লাই-বাই-ওয়্যার' প্রযুক্তির কারণে এর প্রাথমিক ট্রায়ালগুলো পুরোপুরি পাইলটহীনভাবে করা হবে।
নিরাপত্তা পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়ার পরই এতে মানুষ বসানো হবে।ইন্ডিগোর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও বোর্ডের সদস্য আদিত্য ঘোষ জানান, খুব শীঘ্রই এর গ্রাউন্ড টেস্টিং এবং ২০২৭-এর মাঝামাঝি সময়ে ফ্লাইং টেস্টিং শুরু হবে। ডিজিসিএ (DGCA)-র অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এটি বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করবে। ইতিমধ্যেই কোম্পানিটি ৮০০টির বেশি উড়ন্ত ট্যাক্সির অর্ডার পেয়েছে এবং ২১.৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে।