নয়াদিল্লি: প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদ বা বিয়ে করতে অস্বীকার করলেই তা আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলে গণ্য করা যায় না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। এক মহিলার আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁর প্রেমিক-সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন।
কী ঘটেছিল ওই ঘটনায়?
মামলাটি তেলঙ্গানার মেদচল-মলকাজগিরি জেলার কুশাইগুড়ার। অভিযোগ, এক মহিলা প্রায় তিন মাস ধরে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন। দু’জনের মধ্যে সম্পর্কটি সম্মতিভিত্তিক ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এর পরেই ওই মহিলা আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।
মৃতার ভাইবোনদের অভিযোগ ছিল, প্রেমিকের বিয়ে করতে অস্বীকার করার কারণেই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনায় তাঁর প্রেমিক-সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছিল, প্রেমিকের এক বন্ধু ওই মহিলার সম্পর্কে খারাপ কথা বলেছিলেন। প্রেমিকের বোন ও বাবা-মাও সম্পর্কটির বিরোধিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকী, প্রেমিকের বোনের বিয়ের জন্য প্রস্তাবিত পাত্রও এই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।
কেন মামলা খারিজ করল শীর্ষ আদালত?
মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এমন কোনও উপাদান পাওয়া যায়নি, যা থেকে প্রমাণ হয় যে তাঁরা ওই মহিলাকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করেছিলেন। মৃতার দিদিকে ফোন করে প্রেমিকের বিয়ে করতে অস্বীকার করার কথা জানানোর বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। কিন্তু শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায় না বলে মত বেঞ্চের। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মানুষের পরিস্থিতির প্রতি প্রতিক্রিয়া একেক রকম হয়। কোনও সম্পর্কে বিচ্ছেদের পর কেউ আত্মহত্যা করলেই অন্য ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার জন্য দায়ী করা যায় না। বিয়ে করতে অস্বীকার করার পিছনে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, এমন প্রমাণও আদালত পায়নি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর চলবে না মামলা
সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট দায়রা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া খারিজ করে দিয়েছে। অভিযুক্তদের কেউ হেফাজতে থাকলে অন্য কোনও মামলায় প্রয়োজন না থাকলে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জামিনে থাকলে তাঁদের জামিনের বন্ড বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।এই রায় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আত্মহত্যার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় ফৌজদারি দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আদালতের বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে কোনও পরিস্থিতিতেই সম্পর্কের বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা যাবে না। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ এবং অভিযুক্তের ভূমিকা খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।