টানা ২৫ দিন পর অনশন ভাঙতে শর্তসাপেক্ষে সম্মতি জানালেন সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্র সরকার যদি আশ্বাস দেয় যে 'চলো সংসদ' কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পড়ুয়া ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি, শাস্তিমূলক বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাহলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন বলে জানিয়েছেন। এই মর্মে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংকে চিঠি লিখেছেন ওয়াংচুক। চিঠিতে তিনি দুই মন্ত্রীর হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করা এবং অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান।
চিঠিতে ওয়াংচুক দাবি করেন, মন্ত্রীরা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে আন্দোলনকারীদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। প্রথমত, প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, এবং দ্বিতীয়ত, সংসদে এই বিষয় নিয়ে অর্থবহ আলোচনা ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণ, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও আলোচনায় আসতে পারে।
চিঠিতে ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন ওয়াংচুক। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা শৃঙ্খলা বজায় রাখলেও তাঁদের উপর পুলিশ অপ্রয়োজনীয় ও মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি লেখেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা যেন নষ্ট না হয়। তাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনও পড়ুয়া বা প্রতিবাদী নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়।
চিঠিতে আবেগঘন বার্তাও দিয়েছেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, "আমি বাঁচতে চাই। আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের কাছে ফিরতে চাই, শিক্ষার জগতে ফিরতে চাই। কিন্তু যাদের জন্য এই আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে আমি অনশন ভাঙতে পারি না।" তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের একমাত্র 'অপরাধ' হল একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায্য শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি তোলা।
ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার যদি লিখিতভাবে বা স্পষ্টভাবে আশ্বাস দেয় যে কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাহলে তিনি অবিলম্বে অনশন প্রত্যাহার করবেন। তা না হলে, তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন চালিয়ে যেতে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পুলিশি বলপ্রয়োগ না করারও আবেদন জানান তিনি।