নিট-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে জোরদার আন্দোলন শুরু চলছে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির ধর্নামঞ্চে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-যুব এবং সাধারণ মানুষের সমাগম বাড়ছে। আন্দোলনের সমর্থনে গত ১৩ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন লাদাখের বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এবার তাঁর পাশে দাঁড়াল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই।
শুক্রবার আন্দোলনের ২১তম দিনে যন্তর মন্তরে গিয়ে অনশনরত ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য, আদর্শ এম সাজি এবং ঐশী ঘোষ। এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানানো হয়। এর আগে, ৯ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে কলকাতার কলেজ স্ট্রিট-সহ দেশের অন্তত ১০০টি স্থানে প্রতীকী অনশন কর্মসূচির আয়োজন করেছিল সংগঠন। এসএফআই নেতৃত্বের দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল শক্তি। তাঁদের মতে, পরীক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই দেশজুড়ে আন্দোলন বিস্তার লাভ করছে।
এদিন অনশনের ১৩তম দিনে নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও জানান সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, প্রথম কয়েকদিনের তুলনায় এখন তাঁর শরীর অনশনের সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নিয়েছে। যদিও তাঁর ওজন কমেছে এবং শরীরের চর্বির পাশাপাশি পেশিও ক্ষয় হয়েছে। ক্লান্তি থাকলেও তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় রয়েছেন। ওয়াংচুকের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ ও স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে সেখান থেকে সরানোর কোনও ন্যায্যতা নেই। এমন কোনও পদক্ষেপ সংবিধানপ্রদত্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের পরিপন্থী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শুধু পরীক্ষায় অনিয়ম নয়, লাদাখ-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তাঁর মতে, সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন এই বিষয়গুলির সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
অন্যদিকে, সিজেপির দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছে সংগঠন। অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আলোচনার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিলের ডাক দিয়েছে সিজেপি। দেশের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে ওই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন।