লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-র সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্তের দায়ের করা মামলায় কেন্দ্র সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই পর্যায়ে কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত।
বুধবার বিচারপতি পি এস নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে সাওয়ান্তের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী দেবদত্ত কামাত। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-র প্রতীকে নির্বাচিত ৯ জন সাংসদের মধ্যে ৬ জন একতরফাভাবে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা দলে ‘সংযুক্ত’ হওয়ার দাবি করেছেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও দলত্যাগ-বিরোধী আইনে অযোগ্যতার মামলা শুরু হয়নি এবং আইনি দৃষ্টিতে কোনও বৈধ সংযুক্তিও হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, স্পিকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়াই লোকসভা সচিবালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই ছয় সাংসদকে একনাথ শিন্ডে শিবিরের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।
কামাত আরও দাবি করেন, ওই সার্কুলারের ফলে লোকসভায় শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-র সাংসদ সংখ্যা ৯ থেকে কার্যত ৩-এ নেমে এসেছে, আর একনাথ শিন্ডে শিবিরের সাংসদ সংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে ১৩ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগ সংক্রান্ত বিধি না মেনে এই ধরনের ‘সংযুক্তি’ স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।
অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদন জানিয়ে কামাত বলেন, চলতি সংসদ অধিবেশনকে প্রভাবিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্য পক্ষের আইনজীবী নীরজ কিশন কৌল আদালতে দাবি করেন, আইনসভা দলের বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আবেদনকারীর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই একই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। পরে অরবিন্দ সাওয়ান্ত সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটাররা শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-র নেতৃত্ব ও প্রতীকের উপর আস্থা রেখেই ওই ছয় সাংসদকে নির্বাচিত করেছিলেন। পরে তাঁরা একতরফাভাবে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী শিবসেনায় যোগ দেওয়ার দাবি করেন, যা মূল রাজনৈতিক দলের সম্মতি ছাড়া সংবিধান বা আইনের কোথাও স্বীকৃত নয়। এখন নোটিসের জবাব পাওয়ার পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।