স্যমন্তক মণির রহস্যকে কেন্দ্র করে টলিউডে তৈরি হচ্ছে নতুন সিনেমা। ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে ছবিটির ট্রেলার। প্রচলিত পৌরাণিক বিশ্বাস, অলৌকিক শক্তি, অভিশাপ এবং প্রাচীন রহস্যের অনুসন্ধানের সঙ্গে বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে ছবির গল্প। মণির রহস্যের আড়ালে কী লুকিয়ে রয়েছে, সেই অনুসন্ধান নিয়েই এগিয়ে যাবে ‘স্যমন্তক’। ছবির মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা রজতাভ দত্তকে।
সিনেমাটিতে ২০৪৯ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবির গল্পে দেখানো হবে, নতুন করে স্যমন্তক মণির খোঁজ শুরু হয়েছে। এই অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে বিজ্ঞানী ও সাধকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন। একদিকে বিজ্ঞানীরা রহস্যময় রত্নটির শক্তির উৎস খুঁজতে ব্যস্ত, অন্যদিকে অন্ধকার শক্তির অনুসারীরাও প্রাণপণে চেষ্টা করছে মণিটির ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে।
কিন্তু অনুসন্ধানকারী দুই দলের কেউই জানেন না, দ্বারকার পতনের আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পবিত্র স্যমন্তক মণিটিকে দুটি খণ্ডে বিভক্ত করেছিলেন। সেই দুই খণ্ডকে দুটি ভিন্ন জগতে লুকিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অর্জুনকে। কাহিনি অনুসারে, গান্ধারীর ক্রোধের অভিশাপে একটি খণ্ড অভিশপ্ত হয়ে পরবর্তীকালে ‘কোহিনূর’ নামে পরিচিত হয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় খণ্ডটি তার পবিত্র ও ঐশ্বরিক শক্তি অক্ষুণ্ণ রেখে লুকিয়ে থাকে ‘গৌরী প্রয়াগ’ নামের এক অচেনা জায়গায়। সেখানে আজও এক প্রাচীন জনজাতি এই পবিত্র রত্নটিকে দেবতাজ্ঞানে পূজা করে আসছে। মণির দুই খণ্ডের সন্ধান, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্য এবং বিজ্ঞান ও পুরাণের সংঘাতের মধ্য দিয়েই রহস্য উন্মোচনের দিকে এগিয়ে যাবে ছবির গল্প।
বর্তমানে বড় পর্দায় পৌরাণিক কাহিনি দেখার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে। সেই কারণেই ছবিটি সাফল্য পাবে বলে আশাবাদী নির্মাতারা। ইকুইনক্স ফিল্ম সিটির প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে এই সিনেমা। পুরো ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও গ্রাফিক্সের যথেষ্ট ব্যবহার রয়েছে। রজতাভ দত্তের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌমী দত্ত রায়, সৌরভ কে দাস, মৌবনী দলুই এবং দীপ্যমান দত্ত। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সৌরভ কে দাস। ছবির প্রযোজক ঝুমা পাল।