বিশেষ প্রতিবেদন: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে তাঁর সহ-পাইলট ছুরিকাঘাত করার ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একাধিক প্রশ্ন। ঠিক কী কারণে ককপিটের ভিতরে এমন হামলা চালানো হয়েছিল? সহ-পাইলট কি একাই এই কাজ করেছিলেন, নাকি এর পিছনে কোনও বড় পরিকল্পনা ছিল? হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রই বা বিমানের ককপিটে কী ভাবে পৌঁছল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তকারীদের নজর ঘটনার প্রতিটি দিকের দিকে।
বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটিতে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী। সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ককপিটের ভিতরে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে তাঁর ওমানি সহ-পাইলট আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। হামলায় গুরুতর আহত হন স্মিত। একই সময়ে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় বলে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানটিকে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এই ঘটনায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে সৌদি নিরাপত্তা সংস্থার হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে ওমানের নাগরিক বলে চিহ্নিত করা হলেও UAE সরকার তাঁর পরিচয় বা ঘটনার পিছনে থাকা সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
তদন্তে এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়টিও। সহ-পাইলট কি ছুরি ব্যবহার করেছিলেন, নাকি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়েই হামলা চালানো হয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি বাইরে থেকে কোনও ধারালো অস্ত্র বিমানে নিয়ে আসা হয়ে থাকে, তাহলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত পরিস্থিতি এবং হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী যোগ, আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না এবং হামলার পিছনে কোনও নির্দেশ বা সহযোগিতা ছিল কি না—সবকিছুই পরীক্ষা করা হবে।
এদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, অভিযুক্ত সহ-পাইলট সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় উগ্রপন্থার প্রভাবের মধ্যে পড়েছিলেন। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনায় ইরানের কোনও ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্ভাবনা এখনও তদন্তাধীন এবং কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।
অন্যদিকে, আবু ধাবিতে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ভারতীয় আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে দেখা করলেও সূত্রের দাবি, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ঘটনার বিষয়ে কোনও প্রশ্ন না করার অনুরোধ করা হয়েছিল। ফলে এই মুহূর্তে তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই রহস্যের জট খুলতে হবে ককপিটে সেই কয়েক মিনিটে ঠিক কী ঘটেছিল, আর কেনই বা ঘটেছিল।
