দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর 'মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকায় থাকা শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা অবশেষে গ্রেফতার হলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং সিআরপিএফের এলিট কোবরা (COBRA) বাহিনীর যৌথ অভিযানে ধানবাদ-গিরিডি সীমান্তের মানিয়াদি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর সঙ্গে আরও দুই মাওবাদীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। মিসির বেসরার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা।
প্রায় ৬৬ বছর বয়সি মিসির বেসরা ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা। তিনি 'সাগর' এবং 'সুনির্মল' নামেও পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করতেন। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তিনি দেশের শেষ সক্রিয় শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের অন্যতম ছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়, সারান্ডা ও কোলহান অঞ্চলের গোপন ডেরা ছেড়ে গিরিডির দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মিসির বেসরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কোবরা বাহিনী ও ঝাড়খণ্ড পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। আগে থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি বসানো হয়েছিল। অভিযানের সময় তাঁকে পালানোর কোনও সুযোগ না দিয়েই গ্রেফতার করা হয়।
মিসির বেসরার বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় ১৫৪টিরও বেশি মামলা রয়েছে। একাধিক খুন, বিস্ফোরণ, চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র তদন্তাধীন অন্তত তিনটি মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে একবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে ২০০৯ সালে বিহারের লাখিসরাই আদালত চত্বরে মাওবাদীদের সশস্ত্র হামলার সময় তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে যান।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি দেশকে 'মাওবাদী-মুক্ত' বলে ঘোষণা করেছিলেন। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে মিসির বেসরার গ্রেফতার একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অবশেষে তাঁর গ্রেফতারকে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অভিযানের ফলে পূর্ব ও মধ্য ভারতের মাওবাদী নেটওয়ার্ক বড় ধাক্কা খেল এবং ভবিষ্যতে জঙ্গি কার্যকলাপ আরও দুর্বল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।