নিউজ ডেস্ক: গোয়েন্দা গল্পের সাথে বিষের এক সুপ্রাচীন সম্পর্ক। রহস্যকে আরও গাঢ় করে তোলে বিষ। গোয়েন্দা সাহিত্যে কিছু বহুল প্রচলিত বিষের মধ্যে দেখা যায় আর্সেনিক, সায়ানাইড, স্ট্রাইকনিন, নিকোটিন ও থ্যালিয়াম।
বিষের কথা বললে প্রথমেই মাথায় আসে আগাথা ক্রিস্টির নাম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি, পরে ওষুধ বিতরণের প্রশিক্ষণ নেন। রসায়ন, ওষুধপত্র ও বিষ সম্পর্কে সেই জ্ঞানই ছাপ ফেলেছিল তাঁর রহস্য-সাহিত্যে। তাঁর রহস্য উপন্যাসে ৩০-এর বেশি চরিত্রকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করিয়েছিলেন আগাথা। আগাথা ক্রিস্টির রসিক মন্তব্য ছিল, ‘আমাকে যদি ভালো মানের এক বোতল বিষ দেওয়া হয়, তা হলেই আমি নিখুঁত অপরাধের কাহিনি তৈরি করে দিতে পারি।
আর্সেনিক মেশানো খাবার, ব্র্যান্ডিতে ক্লোরাল হাইড্রেট, ক্ষত বাঁধার পট্টিতে সায়ানাইড অথবা আপেলের বীজে থাকা অ্যামিগডালিনকে বিষে পরিণত করা - সাহিত্যের পাতায় এগুলির ব্যবহার বহু পুরনো। ‘এ স্টাডি ইন স্কারলেট’, 'দ্য অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য স্পেকল্ড ব্যান্ড’, থেকে ‘আ পকেট ফুল অফ রাই’, ‘স্পার্কলিং সায়ানাইড’, ‘স্যাড সাইপ্রেস’— একাধিক কাহিনিতে বিষ নাটকীয় মোড় এনে দিতো। বাংলা সাহিত্য বিষের ব্যবহার দেখা যায় ব্যোমকেশের ‘রক্তমুখী নীলা’, ‘বিষের ধোঁয়া’ , ফেলুদার ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’, কাকাবাবুর গল্প ইত্যাদি জায়গায়।
সাহিত্যের সেই বিষ এই বার বাস্তবে তুলে আনছেন সৌভিক মুখোপাধ্যায়। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনের জন্য মধু গুপ্ত লেনের জগজ্জ্যোতি গ্রন্থাগার ও অবৈতনিক পাঠাগারে শুরু হচ্ছে এক বিরল প্রদর্শনী। সংগ্রাহক সৌভিক মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সংগ্রহ নিয়ে আয়োজন করা এই প্রদর্শনীতে দেখা যাবে পুরোনো কলকাতায় ব্যবহৃত বিভিন্ন বিষের শিশি। তার সঙ্গে থাকবে ১৯১৮ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত কলকাতার বাজারে চালু থাকা নানা রকম সিগারেটের প্যাকেট এবং মদের বোতলের লেবেলের সংগ্রহও।
সৌভিক বহু পুরোনো গুদামঘর ও বিভিন্ন মেলা ঘুরে বেড়িয়েছেন এই সংগ্রহ গড়ে তুলতে। তাঁর কথায়, ‘শিশির মধ্যে কোন ধরনের বিষ রয়েছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশিটি। সে কালে বিষ ব্যবহার করার পরে শিশি ভেঙে দেওয়ার নিয়ম ছিল— অনেকটা এখনকার ডিসপোজ়েবল সিরিঞ্জের মতো। তাই, এই ধরনের শিশি পাওয়া খুব কঠিন। এর অনেকগুলোই এখন অ্যান্টিক।’
সংগ্রহে থাকা সকল উপাদানই প্রাণঘাতী বিষ নয়। এমন কিছু রাসায়নিক উপাদানও রয়েছে, যেগুলি এক সময়ে গণ্য হতো ‘ভালো বিষ’ হিসেবে— অর্থাৎ নির্দিষ্ট মাত্রায়, নির্দিষ্ট প্রয়োজনে সেগুলির ব্যবহার হতো চিকিৎসাতেও। ফলে, প্রদর্শনীটি শুধু বিষ ও বিষ দিয়ে খুনের কাহিনি ফিরে দেখা নয়। এর মধ্যে ধরা থাকছে পুরোনো কলকাতার চিকিৎসা, ওষুধ, ধূমপান এবং অপরাধজগতের এক বিস্মৃত ইতিহাসও।
