মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় আপডেট। সোমবার, ১৭-ই আগস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের তৃতীয় কিস্তির ৩০০০ টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। তবে, একসঙ্গে সকলের একাউন্টে টাকা পৌঁছবে না। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অনুযায়ী ধাপে, ধাপে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ১০-ই জুলাই পর্যন্ত যারা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্যে যাঁদের ভেরিফিকেশন তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে এবং আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে এই পর্যায়ে টাকা পাঠানো হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে অনেকেই সোমবার থেকে টাকা পাওয়ার তালিকায় থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, ১০-ই জুলাইয়ের পর আবেদন করা মহিলাদের অনেকের আবেদন এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। ফলে, সোমবার টাকা না এলে আবেদনকারীকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। জানা গিয়েছে, তথ্য যাচাই শেষ হওয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের পরবর্তী ধাপে টাকা পাঠানো হবে। প্রকৃত উপভোক্তারা কেউ বঞ্চিত হবে না।
তবে, শুধুমাত্র আবেদন করলেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া যাবে না। প্রকল্পের নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন, আবেদনকারী মহিলার নিজের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার কম হওয়া প্রয়োজন বলে দেওয়া হয়েছে। তার বেশি আয় হলে তিনি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এছাড়াও পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য। পরিবারের কোনও সদস্য নিয়মিত আয়কর প্রদান করলে আবেদনকারীর যোগ্যতা বাতিল হতে পারে অন্নপূর্ণা ভান্ডার থেকে। সেইসঙ্গে, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও সংস্থা, পঞ্চায়েত , পুরসভা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবারের কেউ বা শিক্ষাকর্মী হিসাবে নিযুক্ত থাকলেও সুবিধা মিলবে না এই প্রকল্পের। এও জানা গিয়েছে, পরিবারের কেউ নিয়মিত সরকারি পেনশন পেলেও আবেদন বাতিল হতে পারে।
তবে, যোগ্যতার নিয়মে সাম্প্রতিক কিছু পরিবর্তনের কথাও সামনে এসেছে। বাড়িতে তিনটি ঘর থাকলেই যে আবেদনকারী অযোগ্য হবেন, এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগে ঘরের সংখ্যার কারণে যারা বাদ পড়েছিলেন, তাঁদের কিছু আবেদন নতুন নিয়মে আবার বিবেচিত হতে পারে।
সূত্রে খবর , ১৭-ই আগস্ট থেকে টাকা পাঠানো শুরু হলেও প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে একই সময় টাকা ঢুকবে না বলে জানা গিয়েছে। আবেদন অনুমোদিত হলে এবং DBTপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে নির্দিষ্ট সময়ে ৩০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এই পরিবর্তনের ফলে আশার আলো দেখছে মহিলারা। অনেকেই আশা রাখছেন এবার অন্তত তারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন।