তারাতলার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে রাজ্যে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রী জরুরি চিকিৎসার আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘এমন এক একটি ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ২৫০ জন রোগীকে প্রাথমিক এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়।’’ এই লক্ষ্য পূরণে রাজ্যের জমি বা স্থানাভাব কোনো বাধা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও জমি রাজ্যে যথেষ্ট রয়েছে। এই বিষয়ে দ্রুত রূপরেখা তৈরি করতে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবকে আপসে আলোচনার মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যতম প্রধান সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম-র ওপর রোগীর চাপ কমাতেও বিশেষ পদক্ষেপের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুবিধার্থে শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
প্রশাসনের এই তৎপরতা থেকে স্পষ্ট যে, তারাতলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নবান্ন। আকস্মিক কোনো বড়সড় বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রাজ্যবাসীকে দ্রুত ও উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশিকা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা এক নতুন দিশা পাবে।