নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যজুড়ে চলছে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান। সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে পথে নেমেছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে নম্বর দেওয়া হল খাদ্য-দফতরের তরফে। পুজোয় খারাপ খাবার বিক্রি করলেই এবার ধরা পড়তে হবে। কোনও দোকান, রেস্তোরাঁ বা খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের বা সন্দেহজনক খাবার বিক্রি হচ্ছে বলে মনে হলে সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। শুধু হেল্পলাইন নয়, ই-মেলের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, জনগণ সমস্যায় পড়লে অভিযোগ জানাতে পারবেন foodsafetywb@gmail.com ইমেল আইডিতে। অথবা ১৮০০১১২১০০ হেল্প লাইন নম্বরে ফোন করেও অভিযোগ জানানো যাবে। হুগলি জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি জানান, 'জেলায় ২৭০ টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। তার মধ্যে ২৫১ টি জায়গায় বিধি না মানার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ১৯ টি ইউনিটের ব্যবসা বন্ধ করা হয়েছে। ২৮ টির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৩ জনের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযান চলাকালীন ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুজোর মরশুমে খাবারের গুণমান নিয়ে যাতে কোনওরকম আপস না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।
নিম্নমানের খাবার বিক্রি রুখতে জেলায় জোরদার তল্লাশি চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। অভিযানে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, পুজোর ভিড়কে কাজে লাগিয়ে খারাপ বা অনিরাপদ খাবার বিক্রি করলে রেহাই মিলবে না। নিয়ম ভাঙলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের অভিযান চলবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে কলকাতা সহ জেলায় জেলাগর বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁ-দোকানে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। ইতিমধ্যে, কলকাতার মোট ৬৫ হোটেল-রেস্তোরাঁয় লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোথাও মিলেছে পচা মাছ-মাংস, কোথাও খাবারে মেশানো হচ্ছিল বিষ রং। কোনও রেস্তোরাঁর পনিরে পেঁচিয়ে চুল। কোনও মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। সামনেই বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। তখন রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিতে সাধারণত মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। এই ঘটনা কার্যত ২০১৮ সালের সেই পচা মাংসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেসময় আবর্জনা ফেলার জায়গা থেকে সংগ্রহ করা মৃত পশুর মাংস কলকাতার রেস্তোরাঁ ও সংলগ্ন শহরতলিতে বিক্রি করা হয়েছিল। তাই জনসাধারণের স্বাস্থ্যের মাথায় রেখে এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে