দিল্লী, নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে বিশ্ব রাজনীতির ব্যস্ততা তুঙ্গে। একই জায়গায় হাজির একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। একের পর এক বৈঠক, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, আন্তর্জাতিক সমীকরণের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত বিশ্ব নেতারা। কিন্তু হঠাৎ বদলে গেল সেই চেনা ছবিটা। সামনে এল এমন এক দৃশ্য, যার বার্তা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে পৌছলো পরিবেশের মঞ্চে। কূটনীতির টেবিল ছেড়ে তাঁদের দেখা গেল সম্পূর্ণ এক অন্য ভূমিকায়। তৈরি হল এমন এক মুহূর্ত, যা রাজনৈতিক আলোচনার থেকেও বেশি নজর কাড়লো।
১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে দিল্লির ভারত মন্ডপমে জড়ো হয়েছেন একাধিক সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্র নেতারা। সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ভারত মন্ডপমের বাইরের লনে আয়োজিত করা হয় বিশেষ যৌথ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি। সেখানে অন্যান্য BRICS নেতাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই কর্মসূচিতে মোদীর সঙ্গে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সহ BRICS-এর অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে যাঁদের ঘিরে সবসময়ই নানা আলোচনা হয়, তাঁদের একসঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে দেখা যায় এদিন। নেতাদের একসঙ্গে এই বৃক্ষ রোপনের ছবি আন্তর্জাতিক মহলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের বার্তা বহন করে।
তবে, BRICS-এর মঞ্চে সাধারণত বাণিজ্য, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পায়। কিন্তু এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা সামনে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশের উপর ক্রমবর্ধমান চাপের সময়ে সদস্য দেশগুলির যৌথভাবে পরিবেশ রক্ষার বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি রাষ্ট্র নেতারা অংশগ্রহণ করেন ঐতিহ্যবাহী 'ফ্যামিলি ফটো'তেও। একই ফ্রেমে BRICS-এর সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি সম্মেলনের কূটনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে, সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যেও এই মুহূর্তটি আলাদা করে নজর কাড়ে। এরই মধ্যে সম্মেলনে গৃহীত হয়েছে 'নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন ২০২৬'। BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে এই ঘোষণায়।
সেই আবহে বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচি নতুন করে যোগ করল আরও একটি প্রতীকি মাত্রা। সব মিলিয়ে দিল্লির ভারত মণ্ডপমের বাইরে এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো না। বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য একসঙ্গে কাজ করার বার্তা সামনে এল দিল্লির এই কর্মসূচিতে।