নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর: এক দিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ, অন্য দিকে ইউক্রেন সংঘাত, তার উপর আমেরিকা-চিনের টানাপড়েন—এই উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেই নয়াদিল্লি থেকে বিশ্বকে ঐক্যের বার্তা দিল BRICS। সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্যে পৌঁছল ১১ দেশের জোট। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ভিন্ন অবস্থানের কারণে যে ঐকমত্য তৈরি কঠিন ছিল, ভারতীয় কূটনীতির তৎপরতায় তা সামলানো গিয়েছে। ঘোষণায় কোনও নির্দিষ্ট দেশকে নিশানা না করে একতরফা যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরোধিতা, আন্তর্জাতিক শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে BRICS।
যুদ্ধের মধ্যেও একসুর, কাউকে সরাসরি নিশানা নয়
এ বারের BRICS ঘোষণার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য এখানেই। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে সদস্য দেশগুলির অবস্থান এক নয়। ইরান সরাসরি সংঘাতের অন্যতম পক্ষ, আবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অবস্থান সম্পূর্ণ অভিন্ন নয়। ফলে কোনও একটি দেশ বা শক্তিকে সরাসরি দায়ী করে বিবৃতি দিলে ঐকমত্য ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
সেই জায়গায় কূটনৈতিক ভারসাম্যের পথ নিয়েছে নয়াদিল্লি। যৌথ ঘোষণায় একতরফা যুদ্ধ বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান জানানো হলেও কোনও নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের নাম করা হয়নি। সংঘাতের আরও বিস্তার রুখতে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবন, অসামরিক পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়া থেকে ইউক্রেন, সমাধান আলোচনার টেবিলেই
BRICS-এর এই অবস্থান শুধু পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও ভারত ধারাবাহিক ভাবে যে বার্তা দিয়ে এসেছে—যুদ্ধের সমাধান সামরিক পথে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে—নয়াদিল্লি সম্মেলনের আবহেও সেই অবস্থান স্পষ্ট।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফের বলেছেন, সংঘাতের সমাধানের পথ হল আলোচনা ও কূটনীতি। ভারত শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে BRICS মঞ্চে ভারতের অবস্থান কোনও একটি শক্তির পক্ষে সরাসরি দাঁড়ানোর বদলে ‘সংঘাতের বদলে সংলাপ’-এর নীতিকেই সামনে রাখছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জে বদল চাই, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর গলা আরও জোরালো
নয়াদিল্লি ঘোষণার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যে বার বার উঠে এসেছে—বিশ্বের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার বাস্তব চিত্র বদলালেও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো এখনও পুরনো।
বিশেষ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ-সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। ভারতের দীর্ঘদিনের UNSC স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও এই বৃহত্তর ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত।
মোদীর বক্তব্যের মূল সুর, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি শুধু আন্তর্জাতিক নিয়মের অনুসারী থাকবে না; ভবিষ্যতের নিয়ম তৈরিতেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা থাকতে হবে। BRICS-কে সেই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরেছে ভারত।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনও আপস নয়
ভারতের কাছে ঘোষণাপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সন্ত্রাসবাদ। BRICS-এর যৌথ অবস্থানে সন্ত্রাসবাদের সমস্ত রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে এই বার্তা সরাসরি মেলে। দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লি বলে আসছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনও রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ভৌগোলিক যুক্তিতে বৈধতা দেওয়া যায় না। BRICS-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চে এই অবস্থানকে অভিন্ন ঘোষণার অংশ করা ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
কারণ, সদস্য দেশগুলির নিজেদের মধ্যেই নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে। সেই ব্যবধানের মধ্যেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরি হওয়াই নয়াদিল্লির অন্যতম কূটনৈতিক সাফল্য।
‘পশ্চিমবিরোধী জোট’ নয়, মোদীর বার্তা আলাদা
BRICS-কে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন—এটি কি আমেরিকা ও পশ্চিমের প্রভাবের পাল্টা শক্তি হয়ে উঠছে?
নয়াদিল্লি অবশ্য সেই ব্যাখ্যা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে। ভারতের বক্তব্য, BRICS-এর লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জোট তৈরি করা নয়। বরং উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির স্বার্থকে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে নিয়ে আসা।
এই অবস্থান ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্যও স্পষ্ট করে। এক দিকে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সম্পর্ক, অন্য দিকে আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্ক—দুই দিক সামলে BRICS-কে একটি স্বাধীন বহুপাক্ষিক মঞ্চ হিসেবে ধরে রাখাই নয়াদিল্লির লক্ষ্য।
ডলার ছাড়ার প্রশ্নে ধীরে পা, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যে জোর
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও BRICS-এর আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। সদস্য দেশগুলির মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং আন্তঃদেশীয় লেনদেন বাড়ানোর বিষয়টি জোর পেয়েছে। এর পিছনে লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী করা এবং কয়েকটি প্রধান মুদ্রার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট—BRICS এখনও ‘ডলার বাতিল’-এর কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিকল্প আর্থিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার দিকে ধীরে এগোচ্ছে। সদস্য দেশগুলির অর্থনৈতিক স্বার্থও এক নয়। ফলে এই ক্ষেত্রে ঐকমত্য তৈরি হলেও বাস্তবায়নই হবে বড় পরীক্ষা।
চিনের শি দিল্লিতে, সাত বছর পর বরফ গলার ছবি
BRICS সম্মেলনের আর একটি বড় বার্তা এসেছে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে। সাত বছর পর ভারতে এলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। লাল কার্পেট অভ্যর্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক যে গভীর সংকটে পড়েছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার পথে ফেরার চেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালের সীমান্তে সেনা প্রত্যাহার-পর্বের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগও বাড়ছে।
তবে বরফ পুরোপুরি গলেছে, এমনটা বলার সময় এখনও আসেনি। সীমান্তে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কেও একাধিক সমস্যা রয়ে গিয়েছে। তাই শি-র দিল্লি সফরকে ‘সম্পর্কের নতুন শুরু’ বলা গেলেও, সেটিকে এখনও পূর্ণ স্বাভাবিকতার চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যাচ্ছে না।
মোদী-শি বৈঠকে নজর, সীমান্তের উত্তাপ থেকে বাণিজ্যের বরফ গলানোই লক্ষ্য
শি জিনপিংয়ের সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এখানেই যে, ভারত ও চিন একই মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বী এবং অংশীদার—দুই ভূমিকাতেই রয়েছে।
এক দিকে সীমান্তে নিরাপত্তা উদ্বেগ, অন্য দিকে ভারতীয় শিল্পের জন্য চিনা যন্ত্রাংশ ও পণ্যের প্রয়োজনীয়তা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে চিন ভারতের বৃহত্তম আমদানি-উৎসে পরিণত হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা নয়াদিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে মোদী-শি আলোচনার মূল গুরুত্ব হবে—সীমান্তে শান্তি বজায় রেখে কী ভাবে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগকে আরও স্থিতিশীল করা যায়।
পুতিনের সঙ্গে মোদী, ২০৩০-এর মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য
BRICS সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে মোদীর বৈঠকও আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা সামনে এসেছে।
প্রতিরক্ষা ও জ্বালানির পাশাপাশি পরমাণু শক্তি, পরিকাঠামো, রেল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিল্প এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সম্পর্ক গভীর করার আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ার তৈরি দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও সহযোগিতার পরিকল্পনা আলোচনায় এসেছে।
পুতিন আবার মোদীকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মোদী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ পশ্চিমী চাপের মধ্যেও ভারত-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্ক যে বহাল রয়েছে, দিল্লি থেকেই তার স্পষ্ট বার্তা গেল।
সমুদ্রপথ নিরাপদ না হলে বিপদে ভারতীয় বাণিজ্য
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহণে। ফলে BRICS-এর আলোচনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং নাবিকদের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পণ্য সমুদ্রপথে আসে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি পরিবহণের খরচ, বিমা, সরবরাহ ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।
এই কারণেই ভারতীয় সভাপতিত্বে BRICS-এর আলোচনায় ‘seafarers’ safety’ বা নাবিকদের নিরাপত্তার মতো বিষয় উঠে এসেছে।
BRICS-এর আসল শক্তি অর্থনীতি, কিন্তু সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ঐক্য
১১ সদস্যের BRICS এখন শুধু পাঁচটি দেশের পুরনো জোট নয়। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মিশর, ইথিয়োপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যুক্ত হয়েছে। এই সম্প্রসারণে সংগঠনটির ওজন বেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে মতপার্থক্যও বেড়েছে।
একই টেবিলে ইরান ও UAE, রাশিয়া ও ভারত, ভারত ও চিন—প্রত্যেকেরই আলাদা কৌশলগত স্বার্থ। ফলে এত ভিন্ন দেশের মধ্যে একটি যৌথ ঘোষণায় পৌঁছনোই এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল।
সেই পরীক্ষায় অন্তত ঘোষণাপত্রের ক্ষেত্রে সফল নয়াদিল্লি।
দিল্লি থেকে বার্তা—বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে
সব মিলিয়ে ২০২৬-এর BRICS সম্মেলন শুধু আর একটি কূটনৈতিক বৈঠক নয়। এটি এমন এক সময়ের সম্মেলন, যখন পুরনো বিশ্বব্যবস্থার ভিত নড়ছে এবং নতুন শক্তির সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
যুদ্ধ থামানোর প্রশ্নে কূটনীতি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থান, রাষ্ট্রপুঞ্জে সংস্কার, গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা—সবকিছুকে একই ছাতার নীচে এনে BRICS তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে দেখাতে চাইছে।
আর ভারতের জন্য এই সম্মেলনের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ প্রথম বার নয়াদিল্লি এমন একটি BRICS-এর নেতৃত্ব দিচ্ছে, যার সদস্য সংখ্যা বেড়েছে, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ওজন বেড়েছে, আবার অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও বেড়েছে।
তাই নয়াদিল্লি ঘোষণার আসল বার্তা শুধু ‘ঐক্য’ নয়—মতপার্থক্য নিয়েও একসঙ্গে চলার চেষ্টা। আর সেই পরীক্ষার কেন্দ্রেই ভারত।