নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকার ‘আঞ্চলিক পুলিশ’-এর ভূমিকার কোনও প্রয়োজন নেই। BRICS সম্মেলনের ফাঁকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকের সময় পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
শনিবার ভারতের মাটিতে আয়োজিত BRICS সম্মেলনের ফাঁকে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। সেখানেই তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ওই অঞ্চলের দেশগুলিরই। বাইরের কোনও শক্তির ‘পুলিশি ভূমিকা’ পালন করার প্রয়োজন নেই।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কথায়, “আমাদের কোনও আঞ্চলিক পুলিশের প্রয়োজন নেই। এই অঞ্চলের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা কেবল এর প্রধান খেলোয়াড় এবং এই অঞ্চলের দেশগুলিই নিশ্চিত করতে পারে।”
পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে সামনে এল, যখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা চরমে। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের অবস্থান বরাবরই হল, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বাইরের শক্তির অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এদিন পেজেশকিয়ানের বক্তব্যেও সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেল।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক দেশগুলির নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল,পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওই অঞ্চলের দেশগুলিরই প্রধান ভূমিকা থাকা উচিত।
BRICS-এর মঞ্চে এই মন্তব্যের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, সংগঠনটির সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যখন শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে, তখন ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্য মূলত আঞ্চলিক স্বনির্ভরতার বার্তা বহন করছে। অর্থাৎ, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় দেশগুলির পারস্পরিক সমন্বয়কেই অগ্রাধিকার দিতে চাইছে তেহরান।
তবে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের আবহে এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। BRICS সম্মেলনের মঞ্চ থেকে পেজেশকিয়ানের এই বার্তা আগামী দিনে আঞ্চলিক কূটনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর।