দিল্লি, নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে মোদী-খালেদ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ভারত ও আমিরাতের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে রাজধানী দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংহতি গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।
বৈঠকের শুরুতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবু ধাবির যুবরাজ ও তাঁর সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। জবাবে যুবরাজ শেখ খালেদ আতিথেয়তার প্রশংসা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের শুভেচ্ছা বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে পৌঁছে দেন। ভারতের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদীও পাল্টা শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে ইউএই-এর জনগণের কল্যাণ ও অব্যাহত উন্নয়ন কামনা করেন।
উভয় নেতার আলোচনায় বিশেষভাবে প্রাধান্য পায় দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা 'কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট'। এই চুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং তার সুফল কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়। আলোচনা শেষে উভয় নেতাই নিজ নিজ দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যৌথ উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে আবু ধাবির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রাউন প্রিন্স কোর্টের চেয়ারম্যান শেখ খলিফা বিন তাহনুন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমী, শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তিমন্ত্রী ড. সুলতান আহমেদ আল জাবের, বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী ড. থানি বিন আহমেদ আল জেয়ৌদি এবং ভারতে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ সাইফ আল নুয়াইমি সহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় নীতি-নির্ধারকেরা।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। জ্বালানি, পরিকাঠামো, শিল্প, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দুই দেশের নেতৃত্বের এই আলোচনায় পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একাধিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, আবু ধাবির যুবরাজের এই সফর ভারত-আমিরাত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি আনতে পারে। বিশেষ করে অর্থনীতি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হলে তার সুফল উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পড়তে পারে।




