নিউজ ডেস্ক: ফের বিতর্কের শিরোনামে প্রাক্তন সাংসদ প্রজ্বল রেভান্না। জেলের ভিতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ফোন পরীক্ষা করতে গিয়ে তদন্তকারীরা বেশ কয়েক ডজন পর্নোগ্রাফিক ভিডিওর সন্ধান পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রেভান্নাকে মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড সরবরাহ করার অভিযোগে আচক দুই কারা কর্মীসহ সাতজন। জেলের মতো কড়া নিরাপত্তার জায়গায় বন্দির হাতে কীভাবে মোবাইল ফোন পৌঁছল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গিয়েছে, গত ১১ অগস্ট বেঙ্গালুরুর পরপ্পন অগ্রহারা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে হঠাৎ তল্লাশি চালানো হয়। জেল কর্তৃপক্ষের তল্লাশি অভিযানের সময় প্রজ্বল রেভান্নার কাছ থেকে ওই ফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরে ডিভাইসটি পরীক্ষা করে তার মধ্যে একাধিক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও থাকার বিষয়টি সামনে আসে। জেল কক্ষ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকটি অশ্লীল ভিডিও ছিল এবং পেনড্রাইভটিতে সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ ছিল। ফোনে থাকা অন্যান্য তথ্য, যোগাযোগের বিবরণ এবং ডিভাইসটি কতদিন ধরে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় রেভান্না ফোনটি তার নয় বলে জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে, অন্য কয়েদিরাও ফোনটি ব্যবহার করত এবং পালা করে তার কাছে আসত।
প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষণ মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাজাও ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে জেলের ভিতর থেকে তাঁর কাছে মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে কীভাবে ফোনটি তাঁর হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও জেলকর্মী বা বাইরের কারও সাহায্য তিনি পেয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
তদন্তকারীরা ফোনটির ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা করে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে জানা গিয়েছে। ফোনে থাকা ভিডিওগুলি কখন ডাউনলোড করা হয়েছিল, সেগুলি কার কাছ থেকে বা কোন উৎস থেকে এসেছিল এবং ফোনটি অন্য কোনও বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে। ফলে জেলের ভিতর মোবাইল উদ্ধারের এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রজ্বল রেভান্নার জেলজীবনে ফোন ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের কেন্দ্রে এসেছে।