নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির বদলে যাওয়া সমীকরণের মধ্যে BRICS-কে আরও কার্যকর এবং শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার BRICS সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় Global South-এর ভূমিকা আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে মহাকাশ, সাইবারস্পেস থেকে বায়োটেকনোলজি, ভবিষ্যতের নিয়ম নির্ধারণে উন্নয়নশীল দেশগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা।
মোদী বলেন, আগামী দিনের আন্তর্জাতিক নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রে সব দেশের সমান অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, AI, সাইবারস্পেস, মহাকাশ, বায়োটেকনোলজি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শুধু ভবিষ্যতের সুযোগই তৈরি করছে না, একইসঙ্গে আগামী দিনের আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনও নির্ধারণ করছে।
এই জায়গাতেই Global South-এর অবস্থান বদলানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এতদিন যেসব দেশ মূলত তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলেছে, এবার তাদের নিয়ম তৈরির প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। অর্থাৎ, Global South-কে ‘rule-taker’ থেকে ‘rule-shaper’-এ পরিণত করতে হবে।
এই লক্ষ্য পূরণে BRICS-এর মাধ্যমে Global South-এর তরুণ কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাবও দেন মোদী। আলোচনার কৌশল, বাস্তব প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করে তাঁদের ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত করার কথা বলেন তিনি।
এর পাশাপাশি সমুদ্রপথে বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে seafarers বা নাবিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁদের জন্য একটি ‘Seafarers Emergency Support Network’ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।
মোদীর প্রস্তাব অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ও কূটনৈতিক মিশনগুলিকে একসঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। কোনও নাবিক বিপদে পড়লে জরুরি বার্তা, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মতো পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
BRICS-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, আগামী ২০ বছরের জন্য সংগঠনকে একটি নতুন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি নিয়ে এগোতে হবে। বার্ষিকভাবে BRICS-এর সভাপতিত্ব পরিবর্তন হলেও যাতে বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা নষ্ট না হয়, তার জন্য একটি ‘continuity and implementation mechanism’ তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।
‘Troika’ ব্যবস্থার মাধ্যমে আগের উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তগুলির নিয়মিত অনুসরণ করা যেতে পারে বলেও জানান মোদী। অর্থাৎ, শুধু সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নয়, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তার ওপরও নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
BRICS-এর বর্তমান অবস্থানকে ‘coming of age’ বা পরিণত হওয়ার পর্যায় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, গত দুই দশকে BRICS আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে। সদস্য দেশগুলি একে অপরের মতামতকে সম্মান করে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যায়।
তবে এবার সেই ঐকমত্যকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করার সময় এসেছে বলেই মনে করেন মোদী। তাঁর বার্তা স্পষ্ট, কাউকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আন্তর্জাতিক মঞ্চে BRICS-এর ঐক্য ও প্রভাবকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে।