কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে? যা নিয়ে শনিবার দিল্লিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে বৈঠকে ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। দিল্লিতে প্রথম বৈঠক হয় ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে। তারপর বৈঠক হয় মমতাপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে দিল্লিতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়। সরাসরি মমতাপন্থী তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি বলেন, 'কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়ে এসেছি, না খাতা না বহি-জো ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কহে ওহি সহি, সেটা আর চলবে না। আমরা আমাদের বক্তব্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস কারও একার সিদ্ধান্তে চলবে না। তৃণমূল কংগ্রেস কোনও পরিবারের দল নয়। তৃণমূল কংগ্রেস কারও বাপের সম্পত্তি নয়। এটা তৃণমূল স্তরের কর্মীদের দল।'
এই বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, 'এখনও প্রতীক নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নেওয়া হয়নি।' আসল তৃণমূল প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলে, 'আমাদের কোনও যায় আসেনা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় কী বললো। সবাই সবটা জানে।' এদিকে, বৈঠক শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র নিশানা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি ঋতব্রতকে বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করেন।
কল্যাণ আরও বলেন, 'ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে সম্পত্তি মনে করে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বেচে দিয়েছেন। বিজেপির দালাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ও তো ধর্ষণে অভিযুক্ত, তাঁর কোনও কথার গুরুত্ব নেই।' তৃণমূলের প্রতীক প্রসঙ্গে বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করেছিলেন। নিজে জোড়াফুল এঁকেছিলেন, তা থেকেই দলের প্রতীক তৈরি হয়। যাঁরা এখন বিদ্রোহ করেছেন, কয়েক মাস আগে মমতার আঁকা ওই প্রতীকেই নির্বাচনেই জয়ী হন তাঁরা। তাই তাঁদের গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল।'
সামনেই রাজ্যে উপনির্বাচন। দেশের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গেও। আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। আগামী ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা। সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর দুই বিধানসভা কেন্দ্র ও পুদুচেরির এক কেন্দ্রে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভোট হবে অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রেও। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। পরদিন অর্থাৎ ১৭ তারিখ স্ক্রুটিনি বা মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ চলবে। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর। তার আগেই তৃণমূল প্রতীক নিয়ে ফয়সলা করতে চাইছে তৃণমূলের দুই শিবির।