স্বনির্ভরতার লক্ষে বিশেষ উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের। বেকার যুবক যুবতী, গৃহবধূ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বনির্ভর করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। রাজ্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যান পালন দফতরের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী ফর্মালাইজেশন অফ মাইক্রো ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজেস এবং প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্পদ যোজনা-র আওতায় জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভায় শুরু হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মশালা। এর মধ্যে দিয়ে স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে পাবেন বেকার যুবক যুবতী, গৃহবধূ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
ইতিমধ্যেই এর জন্য শহীদ মাতঙ্গিনী ও তমলুক-সহ জেলার ছয়টি ব্লকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কৃষক, ক্ষুদ্র খাদ্য ব্যবসায়ী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের সরকারি ঋণ, ভর্তুকি, আবেদন পদ্ধতি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার নানা দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে তারা অনায়াসেই আবেদন করতে পারবে। এছাড়াও আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে অন-দ্য-স্পট অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থাও।
এ বিষয়ে জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানান, আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ এবং কর্মসংস্থানহীন যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। উক্ত শিবির থেকে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার পদ্ধতি, ভর্তুকির পরিমাণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ঋণ পরিশোধের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হচ্ছে আবেদনকারীদের।
ইতিমধ্যেই কাজু প্রক্রিয়াকরণ, চাল থেকে মুড়ি তৈরি, বাড়িতে কেক, চকলেট, বড়ি, পাপড়- সহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসা গড়ে উঠেছে জেলার বহু জায়গায়। এই উদ্যোগগুলিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সহজ শর্তে ঋণ ও বিশেষ ভর্তুকির সুবিধা দিচ্ছে সরকার। এতে গৃহভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসা আরো উন্নত হবে। রোজগারের বিকল্প রাস্তা তৈরি হবে।
প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলায় ক্ষুদ্র খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হবে। ইতিমধ্যেই তমলুকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একাধিক নতুন উদ্যোক্তার হাতে ঋণের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। আগামী দিনে এর মধ্যে দিয়ে জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হবে বলে আসা করছে জেলা প্রশাসন।