কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: নিউ মার্কেট এলাকার হোটেল ‘শিখা ইনে’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে বড় পদক্ষেপ। হোটেলের লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারী দল। বুধবার গভীর রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এছাড়াও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ম্যানেজার ও এক স্টাফকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,এন্টালি থানা এলাকার মেন মার্কেট থেকে আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি জোড়াসাঁকো এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজ সংক্রান্ত নথি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই আবু জাফরের ভূমিকা সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, হোটেলে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সবকিছু খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, হোটেলটি কে পরিচালনা করতেন, লিজের শর্ত কী ছিল এবং পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব কতটা ছিল, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে হোটেলের আরও দু’জন কর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে একজন হোটেলের ম্যানেজার এবং অন্যজন কর্মী। অগ্নিকাণ্ডের আগে হোটেলের পরিস্থিতি কেমন ছিল, আগুন লাগার পর কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তাঁদের কাছ থেকে সেই সংক্রান্ত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও হোটেলকর্মীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিভিন্ন নথিও। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। আবু জাফরের গ্রেফতারির পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং কোনও গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
বুধবার ভোররাতে আগুন লাগে নিউ মার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার নেয়। হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে খবর।