মণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল দেশপ্রিয় পার্কের 'বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি'তে। ৮৯তম বছরের পুরোনো এই পুজো। প্রশ্ন উঠছে, দক্ষিণ কলকাতার এই জনপ্রিয় পুজোর ভবিষ্যৎ তাহলে কী অনিশ্চয়তার মুখে? এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত।
সূত্রের খবর, দক্ষিন কলকাতার ওই জনপ্রিয় দুর্গোৎসবের কমিটি নিয়ে মতান্তর এবং মনান্তর আছে। তাদের একপক্ষে দাবি করেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বহু বছর ধরে ওই পুজো নিজেদের দখলে রেখেছেন বেশ কিছু ব্যক্তি। বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই স্থানীয়রা এই বিশেষ ব্যক্তিদের দখলদারি মানতে চাননি। এই চাপানউতোরের কারণে পূজামণ্ডপের সামনের পার্কটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করা হয়। তবে জোর কদমে পুজোর প্রস্তুতি চলতে থাকে। মণ্ডপ তৈরি হতে থাকে।
জনপ্রিয় এই পুজোকমিটিতে এবছর ৭০ ফুটের মণ্ডপ তৈরি হবে, এমনটাই ছিল পরিকল্পনা। সেই অনুযায়ী গত ২৮শে জুন খুঁটিপুজোও হয়েছিল। কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, গত ৯ই আগস্ট রাত আটটা-সাড়ে আটটা নাগাদ প্রায় ৪০-৫০ জন বহিরাগত যুবক মণ্ডপে আসে। কাউকে কোনোকিছু না বলেই মণ্ডপ ভাঙচুর করেছিল। ১১ আগস্ট এই মর্মে রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ জানানো হয়।
এই ঘটনা নিয়ে চলছে নানা পক্ষের মধ্যে উতপ্ত বাক্যবিনিময়।এই ঘটনায় রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “প্যান্ডেল ধ্বংস করা হয়নি। কোনও কিছু ভেঙে দেওয়া হয়নি। দেশপ্রিয় পার্কের পুজো নিয়ে দুই কমিটির বিবাদ আছে। গত ১০-১২ দিন আগে কেএমসি থেকে বিভিন্ন জায়গায় তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে স্ট্যাটাস জানতে। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আদালতে একটা মামলাও চলছে। আমরা এইসব বিবাদ থেকে দূরে আছি। থাকব।”
কলকাতার দুর্গাপুজোগুলির অরাজনীতিকরণের পক্ষে ও কথা বলেন মাননীয় স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, “দুর্গাপুজো কমিটি আমাকে সভাপতি করার জন্য এসেছিল। আমি সবাইকে না বলেছি। আমি অরাজনৈতিককরণ আমার আদর্শ। আমি বলেছি, সব দুর্গাপুজোয় যাব। কোনও কমিটিতে থাকব না। কমিটির মধ্যে বিবাদ থাকলে নিজেরা মিটিয়ে নিন। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি যেন না আসে।” একইসাথে স্থানীয় বিধায়ক হিসাবে রাসবিহারী এলাকার পার্কগুলি খুলতে উদ্যোগী স্বপন দাশগুপ্ত।