রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পরেই রাজনৈতিক সমীকরণের বদল ঘুটতে শুরু করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসানের পর ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিজেপির তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তৃণমূলের কোনো নেতা বা কর্মীকে দলে নেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে আসার অভিযোগ ঘিরেই এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে।
সম্প্রতি, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শ্রমিক ভট্টাচার্যের হাত ধরে দলে বিজেপিতে যোগদান করেছেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব। এই যোগদানের পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছিল। সেই অসন্তোষই এবার প্রকাশ্যে আনলেন নিখিল রঞ্জন দে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে এবং সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেও তিনি রাজ্য নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য , ‘এই ঘটনায় তিনি ব্যথিত। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত। আর যা কিছু এই পার্টির জন্যই। বিজেপির বহু কার্যকর্তাকে জেল খাটানো হয়েছে বিনা অপরাধে, অনেককে খুন করা হয়েছে , এর জন্য তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা দায়ী। সেই তৃণমূল দলেরই নেতৃত্বদের বিজেপিতে নেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে প্রার্থী করা হচ্ছে। বিজেপির কর্মী-নেতৃত্বরা কি এর যোগ্য ছিল না? তা না করে তৃণমূলের পচা মাল গুলোকে দলে নেওয়া হচ্ছে।’
এরই পাশাপাশি তিনি আরো বলেন , ‘রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন ছয় মাসের মধ্যে তৃণমূলের কাউকে নেওয়া হবে না। আজ কিছুদিন যেতে না যেতেই তৃণমূলের লোকজনদের বিজেপিতে নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তো তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীর লোকগুলো বিজেপির জেলা নেতৃত্বকে টাকা পয়সা দিয়ে হাত করে নেবে। এই ঘটনা কখনোই কাম্য নয় কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্ব কে ভাবা উচিত এই ঘটনাগুলো ঘটানোর পূর্বে। বিজেপির যে সমস্ত নেতাকর্মী যারা দলটাকে প্রাণ দিয়ে আগলে রেখেছেন তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। ’
প্রাক্তন বিধায়কের এই মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তার করা পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানান বিতর্ক। বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ কতটা গভীর এবং এই বিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসির।