তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিল। সম্প্রতি দলের অন্দরে নিজের রাশ শক্ত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সনের পাশাপাশি নিজেকে রাজ্য সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সেই একচ্ছত্র আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির। শুক্রবার তপসিয়ার একটি হোটেলে দীর্ঘ বৈঠকের পর, নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল দাবি করে এক সমান্তরাল রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেছেন ঋতব্রত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতার একাধিপত্যের পাল্টা চাল হিসেবেই এই নতুন সাংগঠনিক বিন্যাস সাজানো হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে দলের মূল কমিটির রাজ্য সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে প্রবীণ নেতা বিপ্লব মিত্রকে। তাঁর সহযোগী অর্থাৎ কার্যকরী রাজ্য সভাপতির গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাভেদ খানকে। শুধু রাজ্যস্তরেই নয়, সর্বভারতীয় স্তরে রণকৌশল নির্ধারণের জন্য তাঁদের জাতীয় কর্মসমিতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে।
মূল কমিটির পাশাপাশি দলের যুব, ছাত্র, মহিলাসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা ও মোর্চাতেও নতুন মুখ এনেছে ঋতপন্থী শিবির। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কারা আছেন সেই কমিটিতে--রাজ্য কমিটি: বিপ্লব মিত্র (সভাপতি),ডাভেদ খান (কার্যকারী সভাপতি) তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস: সাবিনা ইয়াসমিন (সভাপতি),শিউলি সাহা(কার্যকরী সভাপতি) তৃণমূল ছাত্রপরিষদ: সুদীপ রাহা (সভাপতি),কোহিনুর মজুমদার (চেয়ারম্যান), তৃণমূল যুব-কংগ্রেস: আনিসুর রহমান বিদেশ(সভাপতি),সৌরভ বসু(কার্যকরী সভাপতি), তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন:নির্জল দে(সভাপতি),কৃষক সংগঠন:
নিশীথকুমার মালিক(সভাপতি), সংখ্যালঘু সেল: বাহারুল ইসলাম(সভাপতি) এসসি-এসটি সেল:আশিস মার্জিত(সভাপতি)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমিক, কৃষক, সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর সমাজকে পাশে পেতেই প্রতিটি সেলে সুপরিকল্পিতভাবে নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ও কপ্টার ভাড়া নিয়ে ঋতব্রতের সাম্প্রতিক "বাটপারির নতুন দিগন্ত" মন্তব্যের পর, এই সমান্তরাল কমিটি গঠন শাসকদলের অন্দরের ফাটলকে আরও চওড়া করল। এই সংঘাত আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।