রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর ওপর ছিল কড়া নজর। তাঁকে খুঁজতে কার্যত কালঘাম ছুটে গেছিল প্রশাসনের। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। এবার আবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ। বিষ্ণুপুর থানা এলাকায় একটি রিসর্ট ভাড়া নিয়ে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে কাঠগড়ায় উঠেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে সুমিতের নিউ আলিপুরের বাসভবনে তল্লাশি চালায় বিষ্ণুপুর ও বেহালা থানার যৌথ পুলিশ দল। তিনি বাড়িতে না থাকায় তাঁর মায়ের হাতেই একটি নোটিস তুলে দেন পুলিশ আধিকারিকরা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুমিতের মা দ্রুত সমস্যা সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, ছেলে বর্তমানে কোথায় রয়েছেন সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা কেবল এই রিসর্ট কাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। জমি দুর্নীতি এবং নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করার নামে বিপুল অর্থ তোলাবাজির মতো বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছ মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন পর্যবেক্ষণ করে সুমিতের উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছিল কালীঘাটের দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায়। সেই সুত্র ধরে শালবনি থানার পুলিশ সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে সেই অভিযানের পর থেকেই আত্মগোপন করে রয়েছেন তিনি।পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিলে মেদিনীপুর আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। এর পর আইনি সুরক্ষার খোঁজে সুমিতের আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। এর ফলে সার্বিকভাবে আইনি ও প্রশাসনিক চাপের মুখে তৃণমূল নেতার এই ঘনিষ্ঠ সহকারী।