দিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দিল্লির রাজপথে নেমেছে বিরোধীরা। রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সব সংসদীয় দলের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। সেখান থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি গ্রেফতারের দাবি তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং SIR নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি। সেই আবহেই মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে পথে নামেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা। সংসদের মকরদ্বার থেকে শুরু হয় মিছিল। সেখানে অভিষেকের পাশাপাশি কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদদের দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে মিছিল এগোতেই পুলিশ বাধা দেয়। কমিশনের দফতর থেকে কিছুটা দূরে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেওয়া হয়। এরপর রাস্তাতেই অবস্থানে বসেন বিরোধী সাংসদরা। কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ড্রোনের সাহায্যও নেওয়া হয়।
সেখানেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাংলা, বিহার ও মহারাষ্ট্রে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। একইসঙ্গে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বহু আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলেও দাবি করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
অভিষেকের কথায়, নির্বাচন কমিশনের পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পদ থেকে অপসারণ নয়, তাঁকে গ্রেফতারও করা উচিত। কমিশনের চুরি ধরা পড়ে গিয়েছে। আমরা ছ’মাস বা এক বছর আগে যা বলেছিলাম, আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সেই একই কথা বলছেন। কাল সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ফর্ম ৬ কোনও ভাবেই অ্যাপ্রুভ করেনি।'
সোমবার, এসআইআর মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে পদ থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করার অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে শীর্ষ আদালত। অভিযোগ, কমিশনের অন্য সদস্যদের সম্মতি ছাড়াই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং SIR সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়েই উঠেছে মূল প্রশ্ন। সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহন-এর বেঞ্চ উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে।
