নিউজ ডেস্ক: একটি নতুন এ আই টুল, কয়েকটি প্লাগইন আর তারপরে বদলে গেল বাজারের হিসাব। কোথাও শেয়ারের নামে ধস, কোথাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ। যে প্রযুক্তিকে এতদিন সফটওয়্যার সংস্থাগুলির সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেটি এবার তাঁদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। অ্যানথ্রোপিকের নতুন এআই ক্ষমতাকে ঘিরে একদিনের লেনদেনেই সফটওয়্যার, লিগালটেক এবং আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলির শেয়ারে বড় পতন দেখা যায়।
ক্লড চ্যাট বোর্ডের নির্মাতা অ্যানথ্রোপিক জানুয়ারির শেষ দিকে ক্লড কোওয়ার্ক এর জন্য 11 টি ওপেন সোর্স প্লাগইন করে। এই টুলটি মূলত পেশাদারদের বিভিন্ন কাজ সহজ করার জন্য। ব্যবহারকারীদের অনুমতি থাকলে এটি ফাইল পড়া, নথি তৈরি করা, ফোল্ডার গোছানো এবং একাধিক ধাপের কাজ অনায়াসেই সম্পন্ন করতে পারে। নতুন প্লাগইন গুলির মাধ্যমে সেই ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সংস্থাগুলি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কাজের পদ্ধতি প্রয়োজনীয় টুল এবং ডেটা ব্যবহারের নিয়ম ঠিক করে দিতে পারে। উৎপাদনশীলতা, বিক্রয়, বিপণন, অর্থনীতি, ডেটা বিশ্লেষণ, গ্রাহক পরিসেবা থেকে শুরু করে আইন এবং গবেষণা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য প্লাগইন প্রকাশ করা হয়।
তবে, বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আইনি কাজে ব্যবহৃত প্লাগইনটি। চুক্তি পর্যালোচনা, এনডিএ বাছাই, কম্প্লায়েন্স যাচাই এবং আইনি নথি তৈরির মতো কাজকে স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্য রয়েছে এর।
অ্যানথ্রোপিক অবশ্য জানিয়েছে, টুলটির তৈরি ফলাফল লাইসেন্স প্রাপ্ত আইনজীবীদের যাচাই করা প্রয়োজন এবং এটি নিজে আইনি পরামর্শ দেয় না। এই ঘোষনার পরই সফটওয়্যার সংস্থাগুলির শেয়ারে বড়সড় চাপ দেখা যায়। থমসন রয়টার্সের শেয়ার ১৫ শতাংশের বেশি এবং লেক্সিসনেক্সিসের মালিক আরইএলএক্সর শেয়ার প্রায় ১৪ শতাংশ কমে যায়। লিগালজুমের দর প্রায় ২০ শতাংশ পড়ে যায়। পাশাপাশি, ডকুসাইন, সেলসফোর্স, অ্যাডোবি এবং সার্ভিসনাউয়ের শেয়ারেও পতন দেখা যায়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে উদ্বেগের মূল কারণ শুধুমাত্র একটি নতুন টুল নয়। বরং এ আই সংস্থাগুলি যদি সরাসরি নির্দিষ্ট পেশার কাজের জন্য পরিষেবা দিতে থাকে, তাহলে এতদিন সেই কাজের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করা সংস্থাগুলির ব্যবসায় প্রতিযোগিতার চাপ বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিকে জেফরিসের তরফে ‘সাসপোক্যালিপ্স' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে, এই ব্যাখ্যার সঙ্গে সবাই একমত নন। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং এই ধরনের বাজার প্রক্রিয়াকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইও এআইকে পুরনো সফটওয়্যার এর সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে না দেখে নতুন সুযোগ তৈরির প্রযুক্তি হিসেবে দেখার কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে অ্যানথ্রোপিকের এই পদক্ষেপে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে এআইয়ের প্রতিযোগিতা এখন শুধু উন্নত মডেল তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোনও প্রযুক্তি সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন পেশাগত কাজের জায়গায় পৌঁছতে পারে, সেই প্রশ্নটিই ক্রমশ বড় হয়ে উঠেছে। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন নজর সফটওয়্যার শিল্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।