ওড়িশা, অঙ্কন দাস: মানবিকতা এবং কর্তব্যের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠার পরিচয় মিলল। ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ভদ্রক জেলার ধামনগরে। বন্যাদুর্গত ধামনগর ব্লকে এক ৩৭ বছর বয়সী 'আশা'কর্মী হাঁটু-সমান জল পেরিয়ে এক প্রৌঢ়াকে কাঁধে করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।
'আশা'কর্মী মিনতি সাহু নাদিগাঁও এবং ভরতপুর গ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকায় কর্মরত ছিলেন। জলমগ্ন গ্রামগুলোতে ওষুধ বিতরণের দায়িত্ব ছিল মিনতি সাহু'র ওপর। গত ১৬ই আগস্ট মাঠপর্যায়ের কাজ শেষ করে; বাড়ি ফেরার পথে তিনি জানতে পারেন যে, কারণপাল নদীর বাঁধ ভেঙে নাদিগাঁও গ্রামে বন্যার জল ঢুকে পড়েছে!
খবর পাওয়া মাত্রই গ্রামে গিয়ে তিনি দেখেন, বসন্ত দাস নামের এক ৬০ বছর বয়সী প্রৌঢ়া বাড়ির বারান্দায় একা বসে আছেন। তিনি লক্ষ্য করেন বন্যার জল প্রায় তাঁর পা ছুঁয়ে ফেলেছে। মিনতি সাহু এও লক্ষ্য করেন যে, পায়ে সংক্রমণের কারণে ওই প্রৌঢ়া নিজে থেকে চলাফেরা করতে অক্ষম। তিনি জানতে পারেন যে, ওই প্রৌঢ়াকে হাঁটার জন্য পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিতে হতো। মিনতি সাহু জানতে পারেন ওই প্রৌঢ়ার ছেলে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে গেছেন।
এদিকে, বন্যার জল ক্রমাগত বাড়ছিল। সেই অবস্থায় বসন্ত দাস বিপদের মুখে রয়েছেন; বুঝতে পারেন ওই 'আশা'কর্মী, মিনতি সাহু। অবিলম্বেই হাঁটু-সমান জলে তিনি নেমে পড়েন। এরপর তিনি বসন্তকে কাঁধে তুলে নেন। প্রায় ৫০০ মিটার পথ হেঁটে ওই বৃদ্ধাকে নিরাপদে 'পাটনা কমিউনিটি হেলথ সেন্টার' পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এই হেলথ সেন্টারটি বন্যাদুর্গত মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এই ঘটনায় ভদ্রক জেলার তথ্য ও জনসংযোগ আধিকারিক (DIPRO) মধুমিতা শতপথী বলেন, 'মানবিকতার এমন কাজ বন্যা চলাকালীন মানুষের সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মিনতি সাহুর এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।'