বন্যাকবলিত হয়ে বহুবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য অসম।আসামের ভৌগোলিক অবস্থান এবং নদীর গতিপথ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বর্ষাতেই উজান থেকে নেমে আসা জল রাজ্যটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।১৯৮৮ হোক বা ২০০৪--মারাত্মক বন্যার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে টাটকা। তবে এ বছরের পরিস্থিতি অতীতের সেই কালো দিনগুলিকেই যেন ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে উজান অসমের শিবসাগর, জোড়হাট, চরাইদেও এবং গোলাঘাট জেলায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
বিগত কয়েক সপ্তাহের বর্ষণে তৈরি হওয়া জলযন্ত্রণা এবার চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই রাজ্যের ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত ৭৫ জনেরও বেশি মানুষের সলিলসমাধি ঘটেছে। এক নদী থেকে অন্য নদী—উচ্ছ্বসিত জলস্রোতে ডুবে গেছে একের পর এক গ্রাম, গৃহহীন হয়ে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ দুর্গত মানুষ।এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন প্রলয়ঙ্করি রূপ তাঁরা খুব কমই দেখেছেন। ব্রহ্মপুত্র, ধানসিঁড়ি ও বুড়িদিহিং—তিনটি নদীই বর্তমানে বিপদসীমার অনেকটা ওপর দিয়ে বইছে। নদীগুলির বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ জলের তলায় চলে যাওয়ায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। অনেক এলাকাতেই বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই পুরোদমে নেমেছে উদ্ধারকারী দল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)-এর পাশাপাশি পরিস্থিতির গুরত্ব বুঝে নামানো হয়েছে ভারতীয় সেনাও। স্পিডবোট এবং বিশেষ উদ্ধারকারী নৌকার সাহায্যে দুর্গম ও জলমগ্ন এলাকা থেকে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হচ্ছে।রাজ্যের দুর্যোগগ্রস্ত জেলাগুলিতে খোলা হয়েছে শত শত ত্রাাণশিবির। সেখানে আশ্রিত মানুষদের খাদ্য, পানীয় জল ও জরুরি ওষুধপত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে রাজ্যকে সব ধরনের আর্থিক ও লজিস্টিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য অতিরিক্ত দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় আশঙ্কা পিছু ছাড়ছে না ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাসিন্দাদের।