কলকাতা, নিউজ : সামনেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। পুজো মিটলেই রাজ্যে বাজতে চলেছে পুরভোটের দামামা। কলকাতা-সহ রাজ্যের মোট সাতটি পুরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগে বড়সড় রদবদল করল রাজ্য বিজেপি। শুক্রবার সংগঠনের মহিলা, যুব, ওবিসি মোর্চা থেকে শুরু করে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, রাজ্য সম্পাদক সর্বত্র নতুন মুখ ঘোষণা করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠনে একই ব্যক্তির হাতে একাধিক দায়িত্ব না রাখার নীতি কার্যকর করতেই এই রদবদল। এর ফলে সাংগঠনিক পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে তিন মন্ত্রী তাপস রায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পালকে। তাঁদের জায়গায় নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে অন্য নেতাদের। রদবদলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে পরিবর্তন। অগ্নিমিত্রা পালের জায়গায় এই দায়িত্ব পেয়েছেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। অর্থাৎ এবার থেকে রাজ্য বিজেপির মহিলা সংগঠনের নেতৃত্বে থাকবেন তিনি।
শুধু রাজ্যস্তরের মোর্চা নয়, সাংগঠনিক জেলার স্তরেও বেশ কিছু পদে পরিবর্তন করা হয়েছে। রাজ্য সম্পাদক পদেও নতুন মুখ আনা হয়েছে। বিজেপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে দলীয় সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি পদে বেহালা পশ্চিমের ইন্দ্রনীল খাঁ’র বদলে এসেছেন বিধায়ক অমিত সামন্ত।
মহিলা মোর্চার পদ থেকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এছাড়া সাত সাংগঠনিক জেলা বারাসত, বনগাঁ, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও কাটোয়ায় জেলা সভাপতি বদল করা হয়েছে। রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়েছেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা।
পুরভোটের আগে এই পরিবর্তনের তাৎপর্য রয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দুর্গাপুজোর পর রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব বণ্টন করে দলকে নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য সাজিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এই রদবদলের পর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কীভাবে নিজেদের সংগঠনকে সক্রিয় করেন, সেদিকেই নজর থাকবে। বিশেষ করে মহিলা, যুব এবং ওবিসি সংগঠনের নতুন নেতৃত্বকে সামনে রেখে পুরভোটের আগে বিজেপি কী ধরনের সাংগঠনিক কর্মসূচি নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কলকাতা, হাওড়া , বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং। এই সবকটি পুরসভা মিলিয়ে মোট ৬,৩০১টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। প্রশাসনিক তোড়জোড় ইতিধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, এই সাত পুরসভায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৮ বা ২৯ নভেম্বর। এবং আগামী ২ ডিসেম্বর গণনা ও ফল ঘোষণার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
