নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঘিরে যখন উত্তাল রাজধানী, ঠিক সেই সময়ই ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা খেলেন কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় প্রয়াত হলেন তাঁর ঠাকুমা সাবিত্রীবাই শংকর দীপকে। তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও তাঁর আদি গ্রাম সন্তুক পিম্পরিতে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুকালে সাবিত্রীবাইয়ের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছিল। শনিবার নিজের গ্রামেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরিবারের এই কঠিন সময়ে অভিজিৎ নিজে দিল্লিতে থাকায় পরিস্থিতি আরও আবেগঘন হয়ে উঠেছে।
একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে পরিবারের শোক
শনিবার, ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল CJP। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-সহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই আন্দোলনের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। তা সত্ত্বেও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন CJP-র নেতারা।
এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকাকে পুলিশ আটক করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর অভিজিৎ কখন নিজের গ্রামে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নাতির আন্দোলনে পাশে ছিলেন ঠাকুমা
অভিজিৎ দীপকে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সন্তুক পিম্পরি গ্রামের বাসিন্দা। সাম্প্রতিক সময়ে CJP-র বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি জাতীয় স্তরে পরিচিতি পেয়েছেন। সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিভিন্ন বিষয়েই সরব হয়েছেন তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজিতের আন্দোলনের প্রতি তাঁর ঠাকুমার সমর্থনও ছিল। তাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিনে পরিবারের এই সদস্যকে হারানোর ঘটনা তাঁর কাছে আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে দিল্লিতে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। তারই মধ্যে অভিজিতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের আবহ।
ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে অভিজিৎ কবে গ্রামে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন অনেকে।
