কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে দেশের একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়বে সেই বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ দেখাবেন তাঁরা। এর পরেও যদি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করেন সেক্ষেত্রে গোয়া, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে এক বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অক্টোবরের শেষ দিকে দিল্লির যন্তর মন্তরেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে ককরোচদের। দীপকের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ভাবেই আন্দোলন থামবে না।
শুধু পদত্যাগ নয়, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরেরও দাবি জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে কমিশনের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনার দাবিও তুলেছেন তিনি। দীপকের বক্তব্য, ভবিষ্যতে এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা উচিত। তাতে নির্বাচন কমিশনের কাজের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে দাবি তাঁর।
এ ছাড়াও ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়েছেন দীপকে। তাঁর বক্তব্য, ওই তালিকায় আর কোনও রকম পরিবর্তন করা উচিত নয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁদের অজ্ঞাতসারেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকার এসআইআর-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি তিন সদস্যের কমিশন সর্বসম্মতিক্রমেই নিয়েছে। ফলে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের অভিযোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এ দিকে, আগামী ৪ অক্টোবর মুম্বইয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মিছিল করার কথা মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) শিবিরের। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে।
