নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি, এই অভিযোগে ফের পথে নামার ডাক দিল ককরোচ জনতা পার্টি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত মিছিলের ঘোষণা করেছে তারা। সিজেপি জানিয়েছে, মৃত নিট পরীক্ষার্থী ও পুলিশের ‘নির্যাতনের’ অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যরা মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন। সঙ্গে থাকবেন ছাত্র, যুব সংগঠন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণেরা। সোমবার দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। জুলাইয়ের ২৫ তারিখে আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় কেন্দ্র যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ না করার অভিযোগেই ফের আন্দোলনের পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ককরোচদের অভিযোগ, ছাত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার বা খারিজের বিষয়ে কেন্দ্র এখনও স্পষ্ট পদক্ষেপ করেনি। ১৮ অগাস্ট সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি সিজেপি-র। তাদের বক্তব্য, ওই তালিকা হাতে পেলে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একসঙ্গে মামলাগুলি খারিজ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারত শীর্ষ আদালত। কিন্তু কেন্দ্র সেই তালিকা দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে অভিযোগ।
শুধু এফআইআর নয়, নিট-সংক্রান্ত ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে ছাত্র ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তাও এখনও পূরণ হয়নি বলে দাবি সিজেপি-র। দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহের অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহার করানোর পর সরকার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের কথায়, যুবসমাজের সঙ্গে এটি বিশ্বাসঘাতকতা। তাই প্রয়োজন হলে ফের দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সিজেপি।
এর পাশাপাশি সরকারি স্কুলের বেহাল দশা নিয়েও সরব হয়েছে সংগঠনটি। সোমবার সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দেশের সব রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে গত পাঁচ বছরের স্কুল পরিকাঠামো, শিক্ষক-শূন্যপদ এবং বরাদ্দ অর্থের হিসাব চেয়েছেন। পানীয় জল, শৌচাগার, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চের মতো ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান চালাচ্ছে সিজেপি। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদেরও এই স্কুল পরিদর্শনে তরুণদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির উপর। সেই প্রশ্নেই এ বার ৫ সেপ্টেম্বরের দিল্লি মিছিলকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাপ বাড়াতে চাইছে ককরোচরা।