নিউজ ডেস্ক: এসআইআর কারচুপি ও ‘ফর্ম ৬’ অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ।
কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে দিল্লিতে আটক হন CPIM-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সহ পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার, এম এ বেবি, বৃন্দা কারাট, সুজন চক্রবর্তী ও মণীশ সিসোদিয়া। মিছিল থেকে এসএফআই-এর চার শতাধিক সদস্য ও বহু আইনজীবীকে আটক করা হয়।
সকাল থেকেই দিল্লির কেন্দ্রস্থল নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে প্রশাসন। বিপুল সংখ্যায় দিল্লি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী নামিয়ে যন্তর মন্তরের সংযোগকারী রাস্তাগুলি কার্যত সিল করে দেওয়া হয়। বাম দলগুলি সিজেপির এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামতেই উত্তেজনার পারদ চড়ে। মিছিল নিয়ে যন্তর মন্তরের দিকে এগনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা।
দিল্লির রাস্তায় বাধা পেয়ে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ান বাংলার যুব বাম নেতৃত্ব। ধস্তাধস্তির পর সিপিএমের যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, রাজ্য নেতা সুজন চক্রবর্তী ও সৃজন বন্দ্যোপাধ্যায়দের বলপ্রয়োগ করে প্রিভেন্টিভ কাস্টডিতে নেয় পুলিশ।
প্রাথমিক সূত্রে খবর, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে দিল্লি স্টেডিয়ামে অস্থায়ী শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। আটক করা হয়েছে কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাট এবং রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসকে।
আন্দোলনে যোগ দিতে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেছিলেন এসএফআই ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজির দাবি অনুযায়ী, সকাল দশটায় মিছিল শুরু হতেই চার শতাধিক সদস্য এবং আইনজীবীকে আটক করা হয়। অন্যদিকে গোলকিট মার্কেট চত্বরে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, পুলিশ আর দমনপীড়ন নামিয়ে জনতার ক্ষোভ রোখা যাবে না, এই লড়াই আরও জোরদার হবে।
বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়েছে রাজধানীর শাসক দলেও।আপ নেতা ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। আপের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন বিশাল পুলিশ বাহিনী দিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং দলীয় কার্যালয় সিল করে দিয়েছে প্রশাসন।
দিল্লির বাইরেও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। মুম্বইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানে সিজেপির সমর্থনে আয়োজিত জমায়েতে যাওয়ার পথেই মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করে ডিএন নগর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকের বাড়িতেও কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়। বহু আইনজীবীকে আটক করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউন্তর।
