নয়াদিল্লি: মেট্রোর কামরায় আসন নিয়ে সামান্য বচসা। তার পরেই হাতাহাতি, ঘিরে ধরে মারধরের অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল ৪৮ বছরের পবন শর্মার। দিল্লি মেট্রোয় ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা দুর্গা দেবী। তাঁর অভিযোগ, বয়স্কদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত। তার পরেই পবনের উপর চড়াও হন অবসরপ্রাপ্ত এক আমলা ও তাঁর ছেলে। ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ৮ অক্টোবরের। পবন তাঁর মা দুর্গা দেবীকে নিয়ে মেট্রোয় সফর করছিলেন। দুর্গার দাবি, অসুস্থ বোধ করায় তাঁরা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসেছিলেন। সেই সময় মান্ডি হাউস স্টেশন থেকে মেট্রোয় ওঠেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক সঞ্জয় প্রতাপ সিংহ এবং তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থ সিংহ। আসন ছেড়ে দেওয়া নিয়ে পবনের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
দুর্গা দেবীর অভিযোগ, প্রথমে বচসা হলেও দ্রুত পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পবনকে মারেন। পবন প্রতিবাদ করলে দু’জন মিলে তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। তাঁর ঘাড় চেপে ধরা হয়, বুকে ঘুষিও মারা হয় বলে অভিযোগ। ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারেননি মা। চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
মেট্রোর মতো জনবহুল পরিবহণে সামান্য আসন নিয়ে বিবাদ কী ভাবে প্রাণঘাতী হয়ে উঠল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। ঘটনাটি দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটে। মারধরের পর পবন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।
অভিযুক্ত সঞ্জয় প্রতাপ সিংহ ১৯৮৪ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক। তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থ পেশায় আইনজীবী। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে। তাঁদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। কী ভাবে বচসা থেকে মারধর এবং তার পর পবনের মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
একটি আসন নিয়ে মতবিরোধের পরিণতি যে এমন মর্মান্তিক হতে পারে, পবনের মৃত্যু তা ফের সামনে এনে দিল। সহযাত্রীর সঙ্গে মতের অমিল হলে কথা বলে সমস্যার সমাধান করাই স্বাভাবিক পথ। কিন্তু সেই জায়গায় হিংসা ঢুকে পড়লে তার মূল্য দিতে হয় বহু মানুষকে। পবনের পরিবার এখন প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।
