নয়াদিল্লি: রাজধানীর রাস্তায় পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লিতে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২৪ জন পথচারীর। আরও উদ্বেগের বিষয়, মৃতদের মধ্যে ২৬২ জনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়ির পরিচয় জানা যায়নি। দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই তথ্য। রাস্তায় পথচারীদের নিরাপত্তা এবং দুর্ঘটনার পর দায়ী গাড়িকে শনাক্ত করার সমস্যা ফের সামনে এসেছে।
কোন গাড়ির ধাক্কায় কত মৃত্যু?
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লিতে পথচারীদের মৃত্যু হয়েছে এমন ৫১৯টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৫২৪ জন।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২৬২ জন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ির ধাক্কায়। ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে ৬৯ জনের। মোটরসাইকেল ও স্কুটারের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ জন।
এ ছাড়াও ভারী পণ্যবাহী ও পরিবহণকারী গাড়ি, বাস, ট্যাক্সি এবং অটোরিকশার মতো যানবাহনের ধাক্কাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
আহতও বহু, নজরে দুই চাকার গাড়ি
শুধু প্রাণহানিই নয়, পথচারীদের আহত হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিল্লিতে পথচারীদের জড়িত ১,৩২২টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১,৫১৮ জন।
এর মধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ির ধাক্কায় ৪২৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে আহত হয়েছেন ৪৬৬ জন। মোটরসাইকেল ও স্কুটারের ধাক্কায় ৩৭৫টি দুর্ঘটনায় ৪২৮ জন পথচারী আহত হয়েছেন। ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় ২৭১টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩২৪ জন।
DTC বাসের ধাক্কায় মৃত্যু বেড়েছে
দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন বা DTC বাসের ধাক্কায় পথচারীদের মৃত্যুর সংখ্যাও বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত DTC বাসের সঙ্গে জড়িত ১৪টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় ১৪ জন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।
অথচ গত বছর গোটা বছরে DTC বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল ৯ জনের। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অন্য রাজ্যের বাসের ধাক্কায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ক্লাস্টার বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। ট্যাক্সি ও অটোরিকশার সঙ্গে জড়িত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। ই-রিকশার ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। পুলিশের গাড়ি এবং সাইকেলের ধাক্কাতেও একজন করে পথচারীর মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে।
দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ
দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে বিপজ্জনক রাস্তাগুলি চিহ্নিত করা হয়। কোনও রাস্তায় এক বছরে পাঁচ থেকে দশটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটলে সেটিকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সাহায্যে ওই এলাকার রাস্তার নকশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হয়।
তবে অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ির ধাক্কায় এত মানুষের মৃত্যু একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্ঘটনার পর দায়ী গাড়ি শনাক্ত করা এবং চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পথচারীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত গাড়ি শনাক্ত করার ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।




