নিউজ ডেস্ক: চলন্ত ট্রেনে খাবার কিনতে গিয়েছিলেন। তারপর আর নিজের আসনে ফিরে আসেননি। রাঁচি থেকে পটনাগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে যাত্রার সময় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির যোগাযোগ বিভাগের সদস্য দেবপালিক গুপ্ত। সোমবারের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) এবং স্থানীয় পুলিশ।
দেবপালিক জন সুরাজ পার্টির ডিজিটাল কমিউনিকেশন ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব মাস কমিউনিকেশন (IIMC)-এর প্রাক্তনী বলেও জানা গিয়েছে।
প্যান্ট্রি কারে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ!
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেবপালিক তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী গৌতম কুমারের সঙ্গে রাঁচি স্টেশন থেকে জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে ওঠেন। দুপুর প্রায় ২টো ২৫ মিনিটে ট্রেনটি রাঁচি ছাড়ে।
ট্রেন ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পর দেবপালিক জানান, কিছু খাবার কিনতে প্যান্ট্রি কারে যাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজের আসনে ফিরে আসেননি। প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও পরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর সহযাত্রীরা।
গৌতম কুমার জানান, তাঁরা পাশের প্যান্ট্রি কারে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। সেখানে দেবপালিককে না পেয়ে ট্রেনের একের পর এক কামরায় তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান মেলেনি।
মুড়ি জংশনে অভিযোগ, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ
ট্রেনটি মুড়ি জংশনে পৌঁছলে রেল পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় তদন্ত।
মুড়ি জংশনের RPF ইনস্পেক্টর সঞ্জীব সিং জানিয়েছেন, স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাঁদের বক্তব্য, রাঁচির পর ট্রেনের প্রথম স্টপেজ মুড়িতে দেবপালিক নেমেছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ এবং RPF-এর যৌথ দল নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে কাজ করছে। তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন, ট্রেনের ভিতরেই কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, কিংবা অন্য কোনও ঘটনা রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কীভাবে নিখোঁজ হলেন দেবপালিক?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্যান্ট্রি কারে যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল? ট্রেনের কোনও কামরা থেকে তিনি বাইরে পড়ে গিয়েছিলেন কি না, অথবা অন্য কোনও কারণে নিখোঁজ হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন। আপাতত দেবপালিকের সন্ধান পাওয়াই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। ঘটনার পরবর্তী আপডেটের জন্য অপেক্ষা করছেন তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং পরিচিতরা।




