স্বাধীনতা দিবসেই দীর্ঘ দিনের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। ২০২৩ সালের জুনে চেতেশ্বর পূজারা সরে যাওয়ার পর থেকে ৩ নম্বর জায়গায় একের পর এক ব্যাটারকে সুযোগ দিয়েও স্থায়ী সমাধান খুঁজে পায়নি ভারতীয় দল। গত ৩ বছরে এই জায়গা থেকে কোনও ভারতীয় ব্যাটার সেঞ্চুরিও করতে পারেননি। শনিবার গলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই সেই খরা কাটালেন দেবদত্ত পাড়িক্কাল। মাত্র ১৩৪ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছে তিনি কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, ৩ নম্বরের জন্য তাঁকে এত দিন অপেক্ষায় রাখাটা হয়তো সত্যিই বড় ভুল ছিল।
চোটের কারণে সাই সুদর্শন ছিটকে যাওয়ায় সুযোগ এসেছিল পাড়িক্কালের কাছে। দিনের শেষে ১৭৮ বলে তিনি অপরাজিত ১৩১ রানে। ভারত ২ উইকেট হারিয়ে ২৮৮। দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে এ দিন হয়েছে মাত্র ৭৩ ওভার। সেটা না হলে যে মেজাজে ছিলেন পাড়িক্কাল তাতে হয়তো এ দিনই ৩৫০ পেরিয়ে যেত দল। স্বাধীনতা দিবসের দিন শুরু থেকেই স্বাধীনভাবে খেলেছেন দেবদত্ত। এ দিনই অভিষেক হওয়া অফস্পিনার কেশরা নুয়ান্থার বিরুদ্ধে ব্যাকফুটে প্রথম বাউন্ডারি, তার পর বাঁহাতি স্পিনার প্রভাত জয়সূর্যের বলে ছক্কা। প্রথম থেকেই নিজের অভিপ্রায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন ভারতীয় দলের নতুন ৩ নম্বর।
অন্য প্রান্তে লোকেশ রাহুল কিছুটা খোলসেই ঢুকে ছিলেন। এই অবস্থায় পাড়িক্কালই এগিয়ে নিয়ে যান ভারতীয় ইনিংসকে। পা বাড়িয়ে খেলা, ব্যাকফুটে গিয়ে শট নেওয়া কিংবা দ্রুত সিঙ্গল নেওয়া, সব কিছুতেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর গড় ৪৩.১৮। তবু এতদিন থাকতে হয়েছে উপেক্ষিত হয়েই। সুযোগ পেয়েই তাই সবটা যেন সুদে-আসলে পুষিয়ে নিলেন পাড়িক্কাল। অর্ধশতকের গণ্ডি পার করার পর আরও আগ্রাসী মেজাজে হাঁকালেন জীবনের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি।
প্রথম দিনের গলে ১২টি বাউন্ডারির পাশাপাশি একটি ছক্কাও মেরেছেন দেবদত্ত। এ ছাড়াও রান পেয়েছেন কে এল রাহুল। ১৬২ বলে ৭৭ রান করার পর ক্র্যাম্পের কারণে অবসৃত হন তিনি। এর আগে ৩২ রান করে ফিরে গিয়েছিলেন ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। প্রথম উইকেটের জুটিতে ৪৭ রান তোলার পর রাহুলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ফিরে যেতে হয় তাঁকে। তবে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ব্যর্থ অধিনায়ক শুভমান গিল। মাত্র ১৬ রান করেই প্রভাত জয়সূর্যের শিকার গিল। এই মুহূর্তে পাড়িক্কালের সঙ্গে ২৭ রানে ক্রিজে রয়েছেন ঋষভ পন্থ।