নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বুধবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসছে বিরোধী INDIA জোট। বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের তরফে উপস্থিত থাকার কথা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের।
এই বৈঠকের মূল আলোচ্য হতে চলেছে নির্বাচন কমিশন এবং SIR ইস্যু। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীরা কীভাবে যৌথভাবে বিষয়টি সামনে আনবে, তা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ‘রিমুভাল মোশন’। বিরোধী দলগুলির মধ্যে সংসদে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব আনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ও স্বাক্ষর সংগ্রহ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তৃণমূলের তরফে মমতা ও অভিষেকের পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা জানা যাচ্ছে। ফলে বাংলার SIR-সহ নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে গুরুত্ব পেতে পারে।
তবে বৈঠকে জোটের পূর্ণ উপস্থিতি থাকছে না। ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টি এবার বৈঠকে থাকছে না। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও নিজে দিল্লির বৈঠকে থাকছেন না; তাঁর দল প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণেই অখিলেশের অনুপস্থিতি বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকের আরেকটি সম্ভাব্য দিক হল যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সংসদীয় ও রাজনৈতিক স্তরে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, বিভিন্ন রাজ্যে কীভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হবে এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায় এসব নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর INDIA জোটের এই বৈঠক ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে বিরোধীদের পরবর্তী যৌথ কৌশল কী হয়, সেটিই এখন নজরে। তবে বৈঠক শেষে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা আলোচনার পরই স্পষ্ট হবে।